Saturday, March 26, 2022

16>ঠাকুরের কিছু শিক্ষা +ব্রহ্মানন্দ লীলাকথা)

 16>আজ ঠাকুরের কিছু গল্প কথা পড়ছিলাম।

একটি কথা ভীষণ ভালো লাগলো সেই কারণে সকলকে জানাতে লিখে পাঠালাম।


গল্পটি লিখছেনঃ #মলয়_কুমার_ঘোষ

(পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিমবাংলা)

    ( তথ্যসূত্রঃ কাছের ঠাকুর)



  শ্রীশ্রীঠাকুরের এক মুসলমান শিষ্য তাঁর কাছে এসে নিজের দুঃখ দুর্দশার কথা বলছেন। ঠাকুর সবই শুনলেন, কিন্তু কোনো সমাধান দিলেন না। শুধু বললেন-  'তুই কি আমাকে সীতাশাল চাল খাওয়াতে পারিস?' ওই মুসলমান ব্যক্তি তো অবাক। অসহায় ভাবে বলল, ঠাকুর সীতাশাল ধানের চাষ সে তো অনেক খরচ! তাছাড়া প্রচুর জলের প্রয়োজন, ধান পাকার আগে পর্যন্ত জমি ভিজে থাকতে হয়। অনেক অসুবিধা ঠাকুর। 

     এই বলে সে তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া বিবাদ মামলা মোকদ্দমা, দুঃখ দুর্দশার কথা ফের বলতে লাগলো। কিন্তু ঠাকুর আবারো বললেন 'ও মণি, আমারে সীতাশাল চাল খাওয়াতে পারবি নে তুই?' ওই ব্যক্তি যখন তার অসুবিধের কথা বলল; তখন ঠাকুর সকৌতুকে বললেন- তোর ক্ষেতের কাছে তো একটা খাল আছে। সেখান থেকে নালা কেটে জল আনতে পারবি না জমিতে? চাষীটি বলল তা কি করে সম্ভব ঠাকুর; অন্যের ক্ষেতের ওপর দিয়ে নাল কাটলে ওরা কি ছেড়ে দেবে? তাছাড়া ওদের সাথে তো আমার এখন বিবাদ চলছে। ঠাকুর মৃদু হেসে বললেন- ওদের বুঝিয়ে বলিস তুই পারবি। ও মণি, আমার জন্য তুই এটুকু করিস! আমার যে খুব সাধ হচ্ছে রে সীতাশাল চাল খেতে!


◾এই ঘটনার বছর খানেক বাদে সেই মুসলমান চাষীটি গরুর গাড়ি বােঝাই সীতাশাল চালের বস্তা নিয়ে হাজির আশ্রমে। তার পরনে তখন নতুন লুঙ্গি, গায়ে নতুন চাদর, ঠাকুর কে দেখামাত্র-ই মুখে এক গাল হাসি। ঠাকুর এই আপনার সীতাশাল চাল।

-আরে এতো জব্বর ব্যপার। ঠাকুর আনন্দের সহিত বললেন যা বড়বৌকে দিয়ে আয়। তা তুই কেমন আছিস! আজ্ঞে ঠাকুর, খুব ভালো আছি আপনার দয়াতে।

      এখন ওই মুসলমান চাষী আর গরিব নেই। ঠাকুর চাল চেয়েছেন, তাঁকে খাওয়াতে হবে! শুধু, এই অনুরাগের টানে যার প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদে জড়ানো নিত্যদিনের কাজ ছিল, সে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভাব করেছে। খাল কেটে জল এনেছে, তার প্রতিবেশীদের সঙ্গে এখন সুসম্পর্ক তৈরি হয়ে গেছে। আর স্বাভাবিক ভাবেই এর ফলে মামলা-মোকাদ্দমাও সব মিটে গেছে। অন্যদিকে সীতাশাল চাল, বাজারে সহজলভ্য নয় বলে তুলনামূলকভাবে অনেক দামে সে বিক্রি করতে পেরেছে। একারণে আর্থিকভাবেও সে লাভবান হয়েছে, দূর হয়েছে তার দারিদ্র্য-ব্যাধি।


◾এর মধ্যে কোন অলৌকিক কিছু নেই বটে, কিন্তু আছে গভীর বাস্তববােধ ও মনুষ্যচরিত্র গঠনের সুকৌশল কায়দা। পূজনীয় বাবাই'দা বলেন- আমি সেই ভগবানের কাছে মাথা নত করব না! যিনি আমাকে তথাস্তু বলবেন আর সব কিছু হয়ে যাবে। আমি সেই ভগবানের কাছেই যাব যিনি আমাকে পাওয়ার পথটা দেখিয়ে দেবেন, যিনি না করে, আমাকে করিয়ে নেবেন। 'আমি সেই ভগবানের কাছে আত্মসমর্পণ করব যিনি কুরুক্ষেত্রের ময়দানে দাঁড়িয়ে বলবেন- হে অর্জুন ভেঙে পড়োনা, দুর্বলতা ত্যাগ কর, ধনুর তোল আর যুদ্ধ করো।'


    "সংগ্রহীত"

     আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

          26 মার্চ 2022

    

পীযুষ রায় চৌধুরী কে পাঠালাম।


=======================


 ব্রহ্মানন্দ  লীলাকথা::----


আজ আমার এক বন্ধু দিল্লি থেকে লিখে পাঠিয়েছে ::-------

খুব ভালো লাগলো তাই পুনরায় লিখে

পাঠালাম।


গঙ্গার পশ্চিমকুলে বালীতে কল্যাণেশ্বর নামে স্বয়ম্ভুলিঙ্গ শিব বিরাজমান। ঠাকুর একদিন তাঁহার রাখালকে সঙ্গে নিয়া সেখানে যান ও শিব দর্শন করিয়া ভাবাবিষ্ট হন। এই ঘটনার বহু কাল পরে [রাজা] মহারাজ একদিন বেলুড় মঠ হইতে যাইয়া কল্যাণেশ্বরকে পূজা করিয়া আসেন। ব্রজেশ্বরানন্দ প্রভৃতি অনেকে তাঁহার সঙ্গে গিয়াছিলেন। তদবধি প্রতি সোমবার মঠ হইতে কল্যাণেশ্বরের পূজার ব্যবস্থা হইয়াছে। একবৎসর চৈত্রমাসে দারুণ গরম পড়িয়াছে, বৃষ্টির নামগন্ধও নাই। ব্রজেশ্বরানন্দকে ডাকিয়া মহারাজ কহিলেন, দেবেন, তুই যদি বারাে কলসী গঙ্গাজল দিয়ে কল্যাণেশ্বরকে স্নান করাতে পারিস তো আজই বৃষ্টি হবে। আদিষ্ট ব্যক্তি কলসী নিয়া ছুটিলেন। একে একে দ্বাদশ কলসী জলের মহাস্নান পূর্ণ হইতে না হইতে দেখা গেল কালাে মেঘে আকাশ ছাইয়া গিয়াছে। এরূপ অজস্র বারিপাত হইল যে, ব্রজেশ্বরানন্দ মঠে ফিরিয়া দেখেন জমিতে এক হাঁটু জল দাঁড়াইয়া গিয়াছে ! 

                    - (ব্রহ্মানন্দ  লীলাকথা)


       "সংগ্রহীত"

আদ্যনাথ রায় চৌধুরী।

          26 মার্চ 2022

   ====================