Thursday, May 26, 2022

19>||বিবেকানন্দ ও আলোয়ারের সেই বুড়িমা

 

19>||বিবেকানন্দ ও আলোয়ারের সেই বুড়িমা


আলোয়ারের সেই বুড়িমা'কে ভুলতে পারেন নি বিবেকানন্দ। 


সে অনেকদিন আগেকার কথা – ঠাকুরের দেহরক্ষার পর যখন তরুণ পরিব্রাজকরূপে তিনি ছুটে চলেছেন সারা দেশে, তখনই কোনও একটা সময়ে এসে ক'দিন আলোয়ারেও ছিলেন। সেই সময়ে দু'বেলা পেট চলে ভিক্ষার অন্নে। যেদিন কিছুই জোটে না ভিক্ষায়, সেদিন সন্ন্যাসীর জঠরাগ্নির জ্বালা কমায় এলাকার আরেক ভিখারিনি – বুড়িমা। পথের ধারে তাঁর জরাজীর্ণ কুঁড়ে ঘর; দিনশেষে ক্লান্ত, অবসন্ন, ক্ষুধার্ত সেই তরুণ এসে বসলে বুড়ি আস্তে আস্তে কিছুটা বজরার আটা বার করে – ভিক্ষারই ধন সে সব। তারপর সে আটা মেখে, হাতের চাপে চ্যাপ্টা করে, আগুনে পুড়িয়ে খানকতক রুটি বানিয়ে সন্ন্যাসীর দিকে এগিয়ে দেয়, "এ নে, খা রে লালা।" ও, বলা হয়নি, সন্ন্যাসীকে বুড়ি ডাকে "মেরে লালা" বলে; আর সন্ন্যাসী তাঁকে ডাকে "মাঈ"। বজরার রুটির সঙ্গে কাঁচালঙ্কা কামড়ে কামড়ে খেয়ে তৃপ্তির হাসি হাসে 'লালা', বুড়ির আদ্ধেক খাওয়া তাতেই হয়ে যায়।


তারপর অনেকদিন পেরিয়ে গেছে; বুড়ি জানেও না যে দেশ পেরিয়ে, মহাদেশ পেরিয়ে, সমুদ্র পেরিয়ে 'লালা' আজ স্বামী বিবেকানন্দ হয়ে আবার ফিরে এসেছেন আলোয়ারে। না, এখন তিনি ভিক্ষাজীবী নন, রাজার অতিথি। সকাল থেকে সন্ধে রাজসভায় হাজার হাজার লোক আসে যায়, স্বামীজীকে দেখে, কথা বলতে চায়, আশীর্বাদ পেতে চায়। দু'পা এদিক ওদিক গেলে সবসময় সঙ্গে থাকে রাজার দেওয়া দুই পাহারাদার – মন হাঁপিয়ে ওঠে এসবে বিবেকানন্দের। মনে পড়ে এখানে এর আগেকার আসা – আধপেটা কিন্তু স্বাধীন পায়ে ঘুরে বেড়ানো। নিমেষে মনে পড়ে যায় 'মাঈ'র কথা। সেই কুঁড়েঘরে বসে গরম গরম বজরার রুটি, বুড়ির মুখের সেই হাসি ... আহা! কেমন আছে সে, কে জানে! আদৌ আছে তো? একবার দেখে এলে হয়। প্রহরীর চোখের আড়ালে, সন্ধের মুখে একাই বেরিয়ে পড়েন বিবেকানন্দ।


জায়গাটা খুঁজে পেতে অসুবিধে হয় না, এই ক'বছরে আলোয়ার বদলায় নি তেমন একটা। ওই তো বুড়ির কুঁড়েঘর, যেন আরও কিছুটা জীর্ণ। দরজায় একটা নোংরা কাঁথা ঝুলছে। বাইরে থেকেই স্বামীজী হাঁক দিলেন, "মাঈ! ও মাঈ!"

ভিতর থেকে কর্কশ স্বর আসে বুড়ির, "ওহ! বুড়ো মানুষ, দুটো কাজ সারছি, তাতে শান্তি নেই! কে চেল্লাস এই সন্ধে করে?"

"আরে বাইরে এসেই দেখো না, কে!"

হেঁয়ালি সইতে পারে না বুড়ি, ঝাঁঝিয়ে ওঠে, "ওহ, কে আমার রাজপুত্তুর এল রে, বেরিয়ে তাকে দেখতে হবে! কে রে বেটা তুই?"

"আরে, তোর লালা ... মনে নেই মাঈ? তোর লালা এসেছে।"


হাড়-জিরজিরে বুড়িমা উত্তেজনায় কাঁপতে কাঁপতে বেরিয়ে আসে, "কই ... সত্যিই তুই লালা? তুই ... ফিরে এসেছিস? কই, কাছে আয় দেখি... দেখতে পাই না তো চোখে ভালো..."

কাঁপা হাতে স্বামীজীর গাল ছুঁয়ে, অনেক কষ্টে নিজের চিবুক উঁচু করে তাকায় বুড়ি, "সত্যিই তো, আমার লালা! কোথায় গেছিলি? কোথায় চলে গেছিলি বাপ, মাঈকে ছেড়ে?"

"সে সব অনেক গল্প রে মাঈ, হবে 'খন। দুটো খেতে দে তো আগে, বড্ড খিদে পেয়েছে!"

"ওই দ্যাখো! তখনও লালার পেটে আগুন জ্বলতো, আর এখনও! বলি এ ক'বছর কিছু খাস নি, নাকি? আমার কাছে কী আছে, যে তোকে খেতে দেবো এই অবেলায়?"

"কেন, তোর সেই বজরার রুটি দিবি না? লঙ্কা দিয়ে?"


কয়েকমুঠো বজরার আটা মেখে, গনগনে আঁচে পোড়ানো রুটি এগিয়ে দেয় মাঈ, তাঁর লালাকে। ছেলের মুখে সেই তৃপ্তির হাসি দেখে ফোকলা মা'ও হেসে ফেলে। নিজের ছেলেই তো তাঁর! বুড়ির পেটের ছেলে জোয়ান বয়সে চলে গিয়েছিল; সেই থেকে এক লালা ছাড়া আর কাউকেই তেমন আপন ভেবে বাঁচেনি বুড়ি। লালাও পালিয়েছিল বছর কয়েক আগে; এবার ফিরে এসেছে যে, আর সহজে যেতে দেবো না – এই ভেবে চোখ মোছে বুড়িমা। 


"আহা, কী স্বাদ রে মাঈ! কোথায় লাগে এসবের পাশে রাজবাড়ির মণ্ডা মেঠাই!"


"আরে ও লালা, শুনেছিস –", কী যেন মনে করে সোজা হয়ে বসে বুড়ি, "শুনেছিস, এখানের রাজবাড়িতে নাকি মস্ত এক সাধু এসেছে! সঙ্গে কত লোকজন, সাহেব মেম, ভক্ত! সে নাকি বিরাট নামডাক করেছে; এ পথ দিয়ে কত লোক রোজ যাচ্ছে তাকে দেখতে, জানিস? তুই যাবি নাকি দেখা করতে, হ্যাঁ?" লালা উত্তর দেওয়ার আগেই বুড়ি আবার বলে, "না না, থাক! তোর গিয়ে কাজ নেই! পেটই ভরলো না তোর ভালো করে, আর কয়েকটা রুটি দিই? তোর ওদিকে গিয়ে কাজ নেই!"


"কেন রে মাঈ? গিয়ে কাজ নেই কেন?"


"ও বাবা, না, ও সাধু বড়লোক, বিরাট লেখাপড়া করা! কী বলতে শেষে কী বলে দেবে, আমার লালার মনে কষ্ট হবে শুধুশুধু..."


মুখে সাঙ্ঘাতিক এক দুষ্টুমির হাসি নিয়ে তাঁর লালা ঝুঁকে পড়ে, বুড়ির কাছে এসে বলে, "এ মাঈ! একটা মজা করবি? চল, তুই-আমি দুজনেই গিয়ে ওই স্বামীজীকে দেখে আসি! চল চল, যাবি?"


"ধুর ক্ষ্যাপা! রাজবাড়িতে আমাকে ঢুকতে দেবে, না তোকে? ধ্যাতানি খেয়ে ফিরে আসতে হবে! কোত্থাও যেতে হবে না তোকে, আমার কাছে বোস তো!"


"মাঈ, শোন...", যেন কিছুটা গাম্ভীর্যের ছলেই বিবেকানন্দ বলেন, "বলছি, সেই সাধু যদি আমিই হই? তবে?..."


একপল নীরব থেকে খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে ফোকলা বুড়িমা। "কথা শোনো আমার পাগলা বেটা'র! তুই? তুই হবি সেই সাধু? বড় হয়েও মজা করার স্বভাব গেল না তোর, বল? ওরে তুই তো আমার লালা! আমিও গরিব, তুইও গরিব! ও'সব বড় বড় সাধুর বেশি বেশি কথায় কাজ নেই আমাদের!"


আশপাশটা বড় একটা বদলায় নি মাঝের কিছু বছরে। সন্ধেবেলায় চাঁদ উঠেছে, সেই চাঁদের আলোয় ভেসে যাচ্ছে আলোয়ার, তার জনবসতি, পথঘাট। আর সেই পথের ধারের কুঁড়েঘরে বসে এক মাঈ আর তাঁর লালা আগুন-পোড়া বজরার রুটি খেতে খেতে হাসিতে, খুনসুটিতে, আহ্লাদে, আদরে উড়িয়ে দিচ্ছে জীবনের একটা সন্ধে, সেই রাজঅতিথি সন্ন্যাসীর থেকে বহু, বহু দূরে। 


(তথ্যঋণ : 'বন্ধু বিবেকানন্দ' – শঙ্করী প্রসাদ বসু)

Tuesday, May 3, 2022

18>||বিবেকানন্দ:--মেরি লুইস বার্ক ।

 18>||" আমেরিকার সুবিখ্যাত বিবেকানন্দ-গবেষক মেরি লুইস বার্ক লিখেছেন , 


' ভারতবর্ষের মানুষ যদি কোনদিন বিবেকানন্দকে ভুলে যায় তাহলে তা হবে তাদের মৃত্যুর সমান। ' 


( ৪ ঠা জুলাই ১৯০২ ) স্বামী বিবেকানন্দের দেহান্ত ঘটেছে , বেলুড় মঠের যেখানে বিবেকানন্দ মন্দির এখন , সেখানে তাঁর মরদেহ রাখা হয়েছে। এরপর চিতায় অগ্নিসংযোগ করা হলো , দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে।...( ভগিনী ) নিবেদিতাও একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখছেন।... 


গভীর দুঃখের সঙ্গে নিবেদিতা দেখলেন , চিতার আগুন আস্তে আস্তে গ্রাস করছে স্বামীজীর দেহকে এবং সেই আগুন প্রায় ছুঁতে চলেছে সেই উত্তরীয়টিকেও। নিবেদিতা ভাবছেন -- ' হায় ! ঐ উত্তরীয়টিও পুড়ে ছাই হয়ে যাবে ! ওটি যদি স্বামীজীর স্মৃতি হিসাবে রাখতে পারতাম ! ' 


লেলিহান অগ্নিশিখা তখন চাদরটিকেও ছুঁয়ে ফেলেছে। হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া উঠল গঙ্গা থেকে। ঐ চাদরটির একটি অংশ উড়িয়ে নিয়ে ফেলল নিবেদিতার সামনে। নিবেদিতা চাদরটিকে সাগ্রহে নিয়ে মাথায় ছোঁয়ালেন। পরে আমেরিকায় মিস ম্যাকলাউডকে লিখছেন : 


' আমি চেয়েছিলাম ঐ চাদরটিকে তোমার জন্য রাখতে , কিন্তু আগুন ধরে গিয়েছিল তাতে। ভাবলাম , সেটিও শেষ হয়ে যাবে ? আমার জন্য , তোমার জন্য স্বামীজীর শেষ দিনের স্মৃতি আর কিছু থাকল না ? জো , তখনি গঙ্গার হাওয়া ওটিকে তুলে আমার সামনে ফেলে দিল। আমি ওটি রেখে দিয়েছি তোমার জন্য। আর জান , যখন চাদরটির টকরো আমার কাছে এসে পড়ল , আমার কী মনে হলো ? তখন আমার মনে হলো , গুরুদেব যেন পৃথিবীর অপর প্রান্ত থেকে একটি বার্তা পাঠিয়েছেন , যেন একটি চিঠি। তা-ই আমার ধারনা। প্রিয় য়ুম ( ম্যাকলাউড ) , আমাদের স্বামীজী মারা যাননি -- তিনি মৃত নন। তিনি জীবিত চিরজীবিত ! ' 


ঠিক তা-ই। স্বামী বিবেকানন্দ যুগ-যুগান্তরে একইভাবে জীবিত থাকবেন।...( স্বামীজী) বলছেন : 


' এমনও হতে পারে যে , আমি হয়তো বুঝব -- এই দেহের বাইরে চলে যাওয়া , এই দেহকে জীর্ন পোশাকের মতো ফেলে দেওয়াই আমার পক্ষে হিতকর। কিন্তু আমি কোনদিন কর্ম হতে ক্ষান্ত হব না। যতদিন না সমগ্র জগৎ ঈশ্বরের সঙ্গে একত্ব ( #Oneness ) অনুভব করছে , ততদিন আমি সর্বত্র মানুষের মনে প্রেরনা জাগাতে থাকব। ' 


নিবেদিতার মতো জোসেফিনও বিশ্বাস করতেন , স্বামীজী চিরজীবিত। তাঁর মৃত্যু নেই। একবার বেলুড় মঠে একজন সন্ন্যাসী তাঁর কাছে বলেছিলেন : ' Swamiji was... ' তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বৃদ্ধা জোসেফিন জ্বলন্ত চোখে বললেন : 


' What ? Swamiji was ? No , Swamiji is , my boy , Swamiji is ! ' 


সেই মৃত্যুঞ্জয়ী বিবেকানন্দই আসল বিবেকানন্দ। জগতের মানুষ কি তাঁকে চিনেছে ? যিনি তাঁর ললাটে মৃত্যুঞ্জয়ী-ভাগ্যলিখন নিয়ে জন্মেছিলেন , তাঁকে কি আমরা চিনেছি ? জানি না। তবে তিনি স্বয়ং বলেছিলেন : 


' কে আমি তা লেখা আছে আমার ললাটে। যদি তার পাঠোদ্ধার করতে পার , ধন্য তুমি। আর যদি না পার , তাহলে দুর্ভাগ্য তোমাদের , আমার নয়। '" 


( সূত্র : ' জাগরনের মহান অগ্রদূত স্বামী বিবেকানন্দ ' -- স্বামী পূর্নাত্মানন্দ ; ' বিবেকচেতনায় উদ্ভাসিত জগৎ ' ( সংকলন ) ; উদ্বোধন )


================================


               জয় মা


    কলকাতার রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অব কালচারের (গোলপার্ক) গ্রন্থবিক্রয়-বিভাগে একদিন বেলা এগারোটা নাগাদ একজন রিক্সাওয়ালা এসে একটি বই কিনতে চাইল।

বইটির নাম সে বলতে পারল না। 

  শুধু বললঃ “এইমাত্র একজন ভদ্রমহিলা আপনাদের এখান থেকেই একটা বই কিনে আমার রিক্সায় উঠেছিলেন। তাঁকে তাঁর গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিয়েই আমি এখানে এসেছি সেই বইখানা কিনতে। বইটির ওপরে একজন মহিলার শুধু মুখখানির বড় ছবি আছে। বইটির নাম কি আমি জানি না!”

গমলোকটিকে ‘শতরূপে সারদা’ বইটি দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো, সে এই বইটি খুঁজছে কিনা। বইটি দেখে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। ব্যগ্রভাবে বললঃ “হ্যাঁ , বাবু, হ্যাঁ । এই বইটিই আমি কিনতে চাই। এটিই ঐ মহিলার হাতে আমি দেখেছিলাম!

   ” [তখন (১৯৮৫) বইটির দাম ছিল ষাট টাকা।] রিক্সাওয়ালা জানাল, তার কাছে মাত্র দশ টাকা আছে যা সে সেদিন তখন পর্যন্ত উপার্জন করেছে। তার উপার্জনের সম্পূর্ণ অর্থ দিয়েও বইটি কিনতে পারবে না জানতে পেরে সে অত্যন্ত বিমর্ষ হয়ে পড়ল। বিষয়টি বিক্রয়-বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সন্ন্যাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করায় তিনি ঐ রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ “আপনি এই বইটি নিয়ে কি করবেন? আপনি কি পড়তে পারেন?”

     রিক্সাওয়ালা বললঃ “ না বাবু, আমি লেখাপড়া জানি না। তবে বাড়িতে আমার ছেলে আছে, সে লেখাপড়া জানে। সে এবার ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেবে। আমি তাকে বলব, সে আমাকে পড়ে শোনাবে !”

     সন্ন্যাসী বললেনঃ “কিন্তু , আপনি কি জানেন, বইটি কার সম্বন্ধে লেখা-ওপরের ছবিটিই বা কার?” সে বললঃ “না, বাবু, আমি কিছুই জানি না। শুধু যে-ভদ্রমহিলাকে আমি রিক্সা করে নিয়ে যাচ্ছিলাম তাঁর হাতে ঐ বইটি আমি দেখলাম। বইয়ের ওপরের ছবিটা দেখে আমার মনে হলো, ওটি আমার মায়ের ছবি। আমার মাকে আমি খুব ছোটবেলায় হারিয়েছি। মা আমার কেমন দেখতে ছিল আমি জানি না। আমার মনে হলো, ঐ আমার মা-ওটি আমার নিজের মায়ের ছবি। তাই ভদ্রমহিলাকে নামিয়ে দিয়েই আমি এখানে ছুটে এসেছি বইটি কিনব বলে। কিন্তু বইটির দাম ষাট টাকা, আমার আছে মাত্র দশ টাকা!” বলতে বলতে লোকটি ঝরঝর করে কেঁদে ফেলল। সন্ন্যাসী তার কথায় এতই অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন যে, কয়েক মুহূর্ত তিনি কোন কথা বলতে পারলেন না। তারপর তিনি লোকটিকে বললেনঃ “ভাই, আপনাকে টাকা দিতে হবে না। বইটি আপনি এমনিই নিয়ে যান !” তার মিনতিতে সন্ন্যাসী তার ঐ দশটি টাকা নিতে বাধ্য হলেন। সন্ন্যাসী বইটির সঙ্গে তাকে তার ‘মায়ের’ একখানি ছবিও উপহার দিলেন। বই ও ছবি পেয়ে লোকটির মুখে আনন্দ যেন উপচে পড়ল! তার দুই চোখ বেয়ে নেমতে লাগল অবিরল ধারা। এমন যে মা, যাঁর মধ্যে আমাদের মতো মাতৃহারা সন্তানেরা তাঁদের মাকে খুঁজে পাই, শান্তি পাই তাঁর চির স্নেহ ছায়ায়।