Friday, June 23, 2023

24>|| জয় মা জয়রামবাটী ||

       

         24>|| জয় মা জয়রামবাটী ||

                        ( সংগ্রহ)                

  জয়রামবাটীর কাছাকাছি সাতবেড়ে গ্রামের লালুজেলে শ্রীশ্রীমায়ের বিশেষ স্নেহের পাত্র ।  শ্রীশ্রীমাকে 'পিসিমা' বলে ডাকতেন ।  মাছ ধরা পেশা হলেও বাউল গান লিখে গাইতেন ।  একবার দুর্গাপূজার সময় তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রীর বসন্ত হয়েছে ।  কে কার মুখে জল দেয় তার ঠিক নেই ।  জয়রামবাটী ছুটলেন পিসিমার কাছে একটু আশীর্বাদ একটু সহানুভূতির জন্য ।  শুনলেন, পিসিমা কোলকাতায় রয়েছেন ।  সিংহবাহিনীর ফুল মাটি নিলেন বটে, কিন্তু মনে বড় অভিমান ------ " পিসিমা, এই বিপদের সময় তুমিও বাইরে থাকলে !"   সেই রাতে স্বপ্ন দেখলেন, পিসিমা ঘরে ঢুকে বলছেন, " লালু তুই না বলছিলি ------- আমি ভুলে গেছি ;  এই তো আমি এখানেই রয়েছি ।"  ঘুম ভেঙে গেল ।  দেখেন কেউ কোথাও নেই ।  তারপরই ছেলে-বউরা তাড়াতাড়ি সেরে উঠল ।

                      পরের বছর মাথায় খেয়াল চাপলো, ঘরেই মায়ের পুজো করবেন ।  গাঁয়ের লোকেরা হাসাহাসি করতে লাগল, বলল ----- 'লালু, তুই ক্ষেপে গেছিস ।  পুজো আনা কি চাট্টি খানি কথা ?'   কাকা জেঠারা বললেন, 'তোর যখন সাধ হয়েছে তুই নবমীর দিন ঘটে মায়ের পুজো কর ।'

                      লালুজেলের নিজের কথায় ------ " নবমীর দিন সন্ধ্যার সময় উঠোনে সামিয়ানা খাটিয়ে লণ্ঠন জ্বেলে বাউল গানের আসর বসানো হলো ।  হঠাৎ দেখি, ঘটের কাছে পিসিমার মতো কে যেন দাঁড়িয়ে আছে !  আমি ভাবলাম, খাটাখাটুনিতে সব ভুল দেখছি ।  অন্যদিকে চোখ সরিয়ে আবার তাকালাম সেই ঘটের দিকে ।  দেখি দুয়ারে আলো-আঁধারির মাঝে সরু লালপেড়ে ধপধপে সাদা শাড়ি পরে পিসিমাই দাঁড়িয়ে ।  তিনবার ঘুরেফিরে দেখি একই দৃশ্য !  আর স্থির থাকতে না পেরে দুয়ারে ছুটে গিয়ে মাথা ঠুকে বললাম ------- 'পিসিমা !  তোমার এত দয়া !'  তারপর আমার আর কোন হুঁশ ছিল না ।"    


  জয়  মা = জয়  মা =  জয়  মা ।

        ( সংগ্রহ)

=========================

Saturday, June 10, 2023

23>|| " ওঁ" সর্ব শক্তির আঁধার ||

  23>|| " ওঁ" সর্ব শক্তির আঁধার ||(মন্ত্র-11/6)


একমাত্র 'ওঁ'   উচ্চারণে শারীরিক  ও মানসিক লাভ-

*ওঁ* শব্দটি তিন অক্ষরে তৈরী

*অ উ ম্*

*অ* এর অর্থ উৎপন্ন হওয়া 

*উ* এর অর্থ উঠা, উড়তে পারা অর্থাৎ বিকাশ।

*ম* এর মানে হলো মৌন হওয়া  অর্থাৎ ব্রক্ষলীন হয়ে যাওয়া।

*ওঁ* সম্পূর্ণ ব্রহ্মাণ্ডের উৎপত্তি আর পুরো সৃষ্টির দ্যোতক।

*ওঁ* এর উচ্চারণ শারীরিক লাভ প্রদান করে।

*ওঁ*  কিভাবে হয় স্বাস্থ্য বর্ধক আর আরোগ্যলাভের জন্য *ওঁ* এর উচ্চারণ কিভাবে সহায়ক হবে......

★ *উচ্চারণের বিধি :---*

--------------------------------

সকালে উঠে পবিত্র হয়ে *ওঁকার* ধ্বনির উচ্চারণ করুন। *ওঁ* এর উচ্চারণ পদ্মাসন, অর্ধপদ্মাসন, সুখাসন, বজ্রাসনেে বসে অথবা এমনি বসে করতে পারেন। এর উচ্চারণ পাঁচ, সাত, দশ, একুশ বার নিজের সময় অনুসারে করতে পারেন। *ওঁ* জোরেও বলতে পারেন আবার ধীরেও বলতে পারেন। 

ঠাকুর শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসের মতে, “...ওঁ হইতে‘ওঁ শিব’, ‘ওঁ কালী’, ‘ওঁ কৃষ্ণ হয়েছেন।”

 ওঁ-কার বৌদ্ধ ও জৈনদেরও একটি পবিত্র প্রতীক। শিখ সম্প্রদায়ও এটিকে সম্মান করেন।এই প্রতীকের দেবনাগরী রূপ ॐ,।ওঁ -প্রণব(ব্রহ্ম), তৎ-জীব, সৎ-জগৎ। ব্রহ্মের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ বেদ।জীবের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ ব্রহ্মজ্ঞ।জগত কর্মময়।

কর্মের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ যজ্ঞ।সুতরাং, “ওঁ তৎ সৎ” মন্ত্রে বেদ, ব্রহ্মজ্ঞ ও যজ্ঞকে বোঝায়।

★1> *ওঁ কার শরীরের মধ্যে যে বিষ /বর্জ উৎপন্ন হয় তা নাশ করতে পারে।*

★2> *★ওঁ★স্বর* 

ওম-কার জপ আসলে আপনার ভোকাল কর্ডগুলি উন্নতএবং তার চারপাশের পেশীগুলিকে শক্তি দিয়ে আপনার কণ্ঠকে উন্নত করে, ও আড়ষ্ট ভাব দূর করে দেয় যাতে আপনার গলার স্বর পরিস্কার ও মধুর হয় যাতে কোন শব্দ প্রকাশিত হলে সর্বসুন্দর এবং ঠিক ভাবে প্রকাশিত হয়, বিভিন্ন মাত্রা (এক/দুই/তিন) হিসাবে ফলে গায়ক দের শুভ, সাউন্ড টিয়নিং এর জন্য, তাছাড়া সর্দি কাশি দূর করে, সাইনাস এর মতো রোগ গুলি উন্মুক্ত করে বা ভালো করে । 

★3> *ওঁ আর থাইরয়েড (Thyroid)* --:

*ওঁ* এর উচ্চারণ করলে গলায় কম্পন উৎপন্ন হয় যার ফলে Thyroid গ্রন্থিতে Positive প্রভাব পড়তে থাকে। 

★4> *ওঁ আর ঘাবড়ে যাওয়া* --: 

যদি আপনি কথায় কথায় ঘাবড়ে যান অথবা অধীর হয়ে যান তাহলে *ওঁ* এর উচ্চারণ থেকে উত্তম আর কিছুই নেই।

★5> *ওঁ আর চিন্তা* (Tension) --:

এটা শরীরের বিষাক্ত তত্ত্বকে দূর করে অর্থাৎ চিন্তার কারণে উৎপন্ন হওয়া দ্রব্যকে নিয়ন্ত্রণ করে।

★6> *ওঁ আর রক্তের প্রবাহ* --: 

এটা হৃদয় আর রক্তের প্রবাহকে সন্তুলিত করে কোষ কলা অন্তু তন্ত্রু কে সক্রিয় করে শারিরিক ক্রিয়া বিক্রিয়া কে ঠিক রাখতে ভূমিকা নেয়।

★7> *ওঁ আর পাচন* --: 

*ওঁ* এর উচ্চারণে পাচন শক্তি তেজ হয়। কারন ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদান্ত্র এর শক্তি বৃদ্ধি পেয়ে সমস্থ অংগ কে সতেজ রাখতে সহায়ক হয়।

★8> *ওঁ আনে স্ফূর্তি* --:

এর দ্বারা শরীরে আবার থেকে ছোট বেলার মত স্ফুর্তির সঞ্চার হয়, ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয় ওঁ এনার্জি স্টোর করতে পারে যা আপনার দৈনন্দিন কাজ কর্মে সুন্দর ভাবে সবকিছু তে সহায়তা করতে পারে।

★9> *ওঁ আর ক্লান্তি* --:

প্রতিদিনের কায়িক /মানসিক/ হৃদয় জনিত প্রশান্তি  ও ক্লান্ত হওয়ার থেকে বাঁচতে এর থেকে উত্তম উপায় আর কিছুই নেই, সুতরাং আপনার সময় অনুসারে প্রতিদিন একটু স্বরনাপন্ন হলে উউপকৃত হবেন ।

★10> *ওঁ আর ঘুম* --:

যাদের কোন কারনে ঘুম না আসার সমস্যা আছে,  এর থেকে কিছু সময়ের মধ্যেই দূর হয়। রাতে শোওয়ার সময় ঘুম আসা পর্যন্ত মনে মনে এটাকে উচ্চারন করলে ঘুম অবশ্যই আসবে।

★11> *ওঁ আর ফুসফুস* --:

কিছু বিশেষ প্রাণায়ামের সাথে এটা করলে ফুসফুস মজবুত হয় তার সাথে রক্ত সংচালন ক্রিয়া ভাল হয়।

★12> *ওঁ আর মেরুদন্ড* --:

*ওঁ* শব্দ উচ্চারণ করলে কম্পন উৎপন্ন হয়। এই কম্পনে মেরুদন্ডের হাড়গুলি প্রবাহিত হয়ে মেরুদন্ডের ক্ষমতা বাড়ায়। যাতে ষটচক্র সক্রিয় থেকে রোগ মুক্ত থাকতে সহায়তা করে বা ওঁ কার উচ্চারনের কারণে,  সৃষ্ট কম্পনগুলির মাধ্যমে আপনার মেরুদণ্ডের জোর আরও দৃঢ় হয় বা বৃদ্ধ বয়স কালে খুবই গুরুত্বপূর্ণ  ।

★13> *ওঁ দূর করে ভাবনা চিন্তা* --:

 ★ওঁ★ শব্দ উচ্চারণ করলে পুরো শরীর চিন্তা বিহীন হয়ে যায়, যে সমস্ত ব্যাক্তির মস্তিস্ক জনিত কাজই বেশি তাদের পক্ষে একান্ত সহায়।

★14> *ওঁ পাপ নাশক ও ভগবৎ কৃপা প্রাপ্তির সহায়ক*। সুতরাং পূজার একদম প্রথমে এবং পূজার শেষে  ★ওঁ★ উচ্চারণ  করলে পূজায় ঈশ্বর এর সাথে প্রীতি  হবার সুযোগ  বেড়ে যাবে ।

15> *★ওঁ★ আর পার্থিব জীবন*

 আমাদের নিত্য নৈমিত্তিক জীবনে চাওয়া-পাওয়ার শেষ নাই জাতে এই চাওয়া পাওয়ার একটা নিদিষ্ট সীমা বজায় রেখে, মানসিক সুস্থতা বজায় রাখে তাতে অনেক টাই সহায়ক হয়।

16> *★ওঁ★বাস্তু*

*ওঁ* উচ্চারণ করলে বাস্ততে শুভ/ পজেটিভ শক্তি কে টেনে আনতে পারে তাতে উক্ত বাস্তুর পরিবেশের সাথে অশুভ শক্তি ( দৃশ্য/অদৃশ্য) থাকে বা অন্য কোন অশুভ উর্জার প্রভাব কমতে থাকে।

=========================

Tuesday, June 6, 2023

22>|| রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীকের মূল ভাব:-

 22>||রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীকের মূল ভাব:-

(Spiri 10/22)

*******************************

     অনেকেই রামকৃষ্ণ মিশনের প্রতীকের মূল ভাব জানতে চান এবং "প্রতীকের নীচে লেখা "তন্নোহংসঃ প্রচোদয়াৎ" কথটির অর্থ জানতে চান। তাই প্রতীকটির মূল ভাব ও  কথাটির অর্থ পোস্ট ক'রলাম এবং সেটিকে Pinned post হিসাবে রাখলাম।


      ছবিতে, তরঙ্গায়িত জল কর্মের প্রতীক, পদ্ম ভক্তির প্রতীক। উদীয়মান সূর্য জ্ঞান, কুণ্ডলিত সর্প যোগ ও কুণ্ডলিনী শক্তির জাগরণের প্রতীক; যেখানে রাজহাঁস হ'লো পরমাত্মার প্রতীক। সুতরাং, ছবিটার সামগ্রিক ভাবনা হ'লো কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি ও যোগের মাধ্যমে পরমাত্মাকে লাভের লক্ষ্যে অগ্রসর হওয়া যায়।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

"তন্নো হংসঃ প্রচোদয়াৎ" কথাটির অর্থ:-

*********************************

      কথাটি বিশ্লেষণ করলে হয়:  তৎ + নহ্ + হংস + প্রচোদয়াৎ।

[TAT = That (indicating God); NAHA = Our; HAMSAH = Sri Hangsa Dev (Paramhangsa); PROCHODAYAT = May guide & inspire]

     অর্থাৎ, হে হংস (পরমহংস) আমার হৃদয়কে প্রজ্জ্বলিত করুন।  ইংরাজি অর্থ:- Let HAMSA (PARAMHAMSA) illuminate my mind.