Tuesday, February 24, 2026

33>গিরিশচন্দ্র ঘোষ::----

   33>গিরিশচন্দ্র ঘোষ::----

স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ ----



  "আমি রাক্ষসী এক সন্তান খেয়েছি। পাছে আমার দৃষ্টিতে কোন অমঙ্গল হয়, তাই আমি একে কাছে আসতে দিতাম না।.... আমার হেলায় কত কষ্ট পেয়েছি---আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।"


গিরিশ ছিলেন রাইমণির অষ্টম গর্ভের সন্তান ; তাই পাছে মায়ের দৃষ্টিতে পড়িয়া সন্তানের অমঙ্গল হয়, এই ভয়ে জননী গিরিশকে কোনেরূপ আদর করিতেন না। তবে জননীর স্নেহে তিনি যতটুকু বঞ্চিত ছিলেন, পিতার আদর ততটুকু অধিক পাইতেন। অতঃপর একটি ঘটনায় গিরিশ বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহারই মঙ্গলকামনায় জননী এই অপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন।


একদিন গাল ও গলা ফুলিয়া বালক গিরিশ জ্বরে অজ্ঞান প্রায় হইয়া পড়িয়া আছেন, সেই সময় রাইমণি নীলকমলবাবুকে ব্যাকুল ভাবে বলিলেন, "তুমি যেমন করে পারো বাঁচাও।" অকস্মাৎ স্নেহের আতিশয্য দেখিয়া নীলকমল কারণ জিজ্ঞাসা করিলে রাইমণি বলিলেন, "আমি রাক্ষসী এক সন্তান খেয়েছি। পাছে আমার দৃষ্টিতে কোনো অমঙ্গল হয়, তাই আমি একে কাছে আসতে দিতুম না।..... আমার হেলায় কত কষ্ট পেয়েছে---আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।"


ইতঃপূর্বে বাইশ বৎসর বয়সে গিরিশের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যু হইয়াছিল। জননীর পুর্ণ স্নেহে বঞ্চিত থাকার আরেকটি কারণও ছিল। পুত্রপ্রসবের পর রাইমণি সূতিকারোগে শয্যাশায়িনী হন এবং মাতৃস্তনে বঞ্চিত গিরিশ এক বাগদি মেয়ের স্তন্যপানে বাধ্য হন। জননী অতঃপর দীর্ঘদিন ধরাধামে ছিলেন না----গিরিশের দশ বৎসর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। 


গিরিশের বাল্যজীবনের শিক্ষা-দীক্ষা সাধারণ গতিতেই অগ্রসর হইতেছিল। বিশেষ এই যে, পিতার আদরের দুলাল গিরিশ বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বড়ই আবদারে হইয়া উঠিতেছিলেন ; যেখানে বাধা পাইতেন সেখানেই তাঁহার অশান্ত ভাব দ্বিগুণ শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করিত। জুজুর ভয় দেখাইলে তিনি জুজুর সহিত সাক্ষাৎ করিতে অগ্রসর হইতেন। পুত্রের এই প্রকৃতির পরিচয় পাইয়া পিতা সম্ভবক্ষেত্রে মোটেই বাধা দিতেন না।


গৃহদেবতা শ্রীধরকে নিবেদন করিবেন মনে করিয়া জেঠাই-মা বাগানের প্রথম শশাটি কুটো-বাঁধা করিয়া রাখিয়াছেন। গিরিশের উহা খাইবার ইচ্ছা হইল, তাই পিতার বাড়ি ফিরিবার পূর্বে কান্না শুরু করিলেন, "তেষ্টা পেয়েছে"-----"জলখাবার তেষ্টা নয়" বা "বাজারের শশা খাবার তেষ্টা নয়, খিড়কির বাগানের শশা খাবার তেষ্টা।" বাবার আদেশে শশা গিরিশের হাতে আসিল। জেঠাই-মা দেবরকে বারণ করিলে নীলকমল উত্তর দিলেন, "বালক যার জন্য এত করে কাঁদছে, শ্রীধর তা কি তৃপ্তি করে খাবেন ?"


🌼জয় মা

🕉️জয় ঠাকুর

🕉️জয়গুরু মহারাজ🌼

  

গিরিশচন্দ্র ঘোষ 

স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ 

====================