Friday, March 27, 2026

37>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা +3 ||

 37/1>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা ||

      2>|| ধ্যান জপ কি ভাবে করবে ||

      3>|| মন চাঙ্গা তো কাঠতি মে গঙ্গা ||

       4>|| ইষ্ট নাম জপের প্রকার ভেদ ||

================================

 37/1>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা   ||


★ঈশ্বরের প্রথম কৃপা::--

মনুষ্যদেহে জন্মানোটাই প্রথম কৃপা।


★ দ্বিতীয় কৃপা।:--

মনুষ্যদেহে জন্মানোটাই যথেষ্ট নয়, সেইসঙ্গে মুক্তিলাভের প্রচণ্ড ইচ্ছাও থাকা দরকার। এই মুক্তিলাভের ইচ্ছাই ঈশ্বরের

দ্বিতীয় কৃপা। 


★তৃতীয় কৃপা হলো:-- 'মহাপুরুষসংশ্রয়ঃ'-কোনো মুক্তপুরুষের সান্নিধ্যলাভ এবং তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা। মহাপুরুষ কে? যিনি অসাধারণ আধ্যাত্মিকগুণসম্পন্ন।

অধ্যাত্মজীবনে এমন মানুষের পথনির্দেশ ও তত্ত্বাবধান আমাদের একান্ত প্রয়োজন। না হলে অবস্থা হয় ইঁদুরের মতো। কলে পড়ে ইঁদুর ছটফট করে, আর কেবলই মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বেরোবার পথ না জানায় সে কেবল ঐ কলের মধ্যেই ঘুরে মরে। বেরোবার পথ আছে। যে-পথ দিয়ে সে কলে ঢুকেছে, বস্তুত সেটিই পালাবার পথ; কিন্তু সে তা জানে না, এটাই তার দুর্ভাগ্য! মানুষের অবস্থাও তা-ই।


স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (বিবেকচূড়ামণি ও তার মর্মবাণী-৩৯)

               

🌺জয় মা ,

🌺 জয় ঠাকুর,

🙏প্রণাম

          (সংগ্রহীত)

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

    2>|| ধ্যান জপ কি ভাবে করবে ||

আমি জানি তুমি কখনো কখনো চেষ্টা করছো, এভাবে কখনো কখনো করলে হবে না কেমন চেষ্টা করতে হবে 

অনেকেই বলেন, “ধ্যানের সময়ে ভালভাবে মনঃসংযোেগ করতে পারছিনা। মন বড়ই চঞ্চল।” মা হেসে উত্তর দিলেন, “ওটা কিছু নয়। মনের ঐ স্বভাব, চোখ এবং কানের মতােই। নিয়মিত ধ্যান-জপ করে যাও। ভগবানের আকর্ষণ ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। নিয়মিত অভ্যাস করলে সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে। সব সময় ঠাকুরের কথা ভাববে, তিনি তােমাকে সর্বক্ষণ দেখছেন। তােমার ত্রুটি সম্পর্কে একদম চিন্তা করবে না।" আমি বললাম, “মা, আশীর্বাদ করুন যাতে আমি নিয়মিত অভ্যাস করতে পারি।” মা মিষ্টি হেসে বললেন, “তােমার কথাবার্তা, কাজকর্ম ও অভ্যাস সম্পর্কে সৎ থাকবে। তাহলেই অনুভব করবে, কতখানি ধন্য তুমি। ঠাকুরের আশীর্বাদ সর্বক্ষণ জীবের উপর বর্ষিত হচ্ছে, তা চাওয়ার দরকার হয় না। ব্যাকুল হয়ে ধ্যান-জপ কর, তাঁর অসীম কৃপা বুঝতে পারবে। ভগবান চান ঐকান্তিকতা, সত্যবাদিতা, ভালবাসা। বাহ্যিক ভাববাচ্ছাস তাঁর কাছে পৌঁছায় না। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে নামজপ করবে, মন্ত্রোচারণের সময়ে সর্বশক্তি দিয়ে মনকে একাগ্র করবে। যদি অন্য সমস্ত চিন্তা সরিয়ে দিয়ে হৃদয়ের গভীরতম আর্তির সঙ্গে তুমি প্রভুকে ডাকতে পার, তিনি সাড়া দেবেনই। করুণাময় তিনি। তােমার প্রার্থনা পূরণ করবেন।”

     ( সংগ্রহীত)

(পদপ্রান্তে ১/১৯৫)

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■


 3>|| মন চাঙ্গা তো কাঠতি মে গঙ্গা ||


 মানুষের মন প্রায়শই শুদ্ধতার চিন্তায় নানা ভাবে নিজেকে শারীরিক কষ্ট দেয়। এবং

অপরকেও দোষারোপ করতে ছাড়ে না।

নানান অবাস্তব উদ্ভট চিন্তায় নিজের মনেই নানা চিন্তার সৃষ্টি কিরে যেমন জপ করবো—বাসি কাপড়ে করবো, না কাপড় বদলে করবো?

বিছানায় বসে করবো, না আসনে বসে করবো?

স্নান না করে করলে কি দোষ হবে?”


এই সব প্রশ্ন আমাদের মনে বারবার আসে। কিন্তু ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দ—তিনজনেই এক কথায় বলেছেন,


 ভগবান কোনো বিধিনিষেধের মধ্যে বাঁধা নন; বাঁধা থাকলে থাকেন আমাদের মনের ভিতর।


ঠাকুর বলতেন—


 “ডাকলেই তিনি আসেন। শুধু ডাকতে জানতে হবে।”


মা সারদা দেবী স্পষ্ট করে বলেছেন—


 “জপ-ধ্যানের আসল কথা হলো স্মরণ। শুদ্ধতা আগে মনের, পরে দেহের।”


আর স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের শিখিয়েছেন—


 ভগবান আমাদের একেবারে নিজের জন।


 তাঁকে ডাকার জন্য যদি অজস্র নিয়ম মানতে হয়, তবে সে ডাক হৃদয়ের ডাক থাকে না—তা হয়ে ওঠে কেবল আচার।


স্বামী লোকেশ্বরানন্দ মহারাজ তাই বলেছেন—


শিশু যেমন মাকে ডাকবার আগে নিয়ম মানে না,

ঠিক তেমনই ভক্ত যখন ঈশ্বরকে ডাকে, তখন সময়–স্থান–বেশভূষার হিসাব করে না।


বিছানায় শুয়ে, কাজের ফাঁকে, অশ্রুসিক্ত চোখে,

চান করে বা চান না করেই—


 *যখন মনে পড়বে, তখনই ডাকাই হলো সত্যিকারের জপ।*


নিয়ম আছে—নিয়ম মানাও ভালো।

কিন্তু নিয়মের বাইরে ডাকবার স্বাধীনতাই ভক্তির প্রাণ।


★ সম্ভব হলে আসনে বসে ডাকবো,

★সম্ভব না হলে যেখানে আছি সেখান থেকেই ডাকবো,

★ আর সবচেয়ে বড় কথা—

সম্ভব হলে সবসময়ই তাঁকে স্মরণ করবো।


— স্বামী লোকেশ্বরানন্দ

      (সংগ্রহীত)

======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

     4>|| ইষ্ট নাম জপের প্রকার ভেদ ||


শাস্ত্র মতে ইষ্ট নাম বা মন্ত্র জপ করা হয় নানান প্রকারে:---


1>হৃদয় জপ,

2>কন্ঠ জপ,

3>বাচিক জপ (উচ্চস্বরে),

4> মানস জপ,(মনে মনে)।

5> উপাংশু জপ,(ফিসফিস করে)

6>জিহ্বাজপ,

7>অসংখ্য জপ।

8>অজপা জপ।(শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবা জপ হয়)


★1>ইষ্ট নাম জপ যখন করাহয়  হৃদয়ে  তাকে বলে হৃদয় জপ।

★2>জপ যখন করা হয় শুধু মাত্র কন্ঠে তাকে বলে কন্ঠ জপ।


★3>জপ যখন করা হয় ঠোঁট নাড়িয়ে বা উচ্চারণ করে (উচ্চস্বরে), এই জপে মন্ত্র বা ইষ্টের নাম উচ্চস্বরে স্পষ্ট উচ্চারণ করে পাঠ করা হয় তাকে বলে বাচিক জপ।


★4>মন্ত্র মনে মনে উচ্চারিত হবে কিন্তু কানে শোনা যাবে না ঠোঁট , জিহবা কিছুই নড়বে না (মনে মনে) জপ হবে তাকে বলে মাসন জপ।

★5>মন্ত্র উচ্চারন হবে জিহবা নড়বে  কানে শোনা যাবে(ফিসফিস করে) তাকে বলে উপাংশু জপ।


★6> শুধু মাত্র জিহবা দ্বারা জপ করাকে বলা হয় জিহবা জপ।

★7>মেলায় সংখ্যা রেখে নয়, কর গুণেও নয় চলাফেরা করতে করতে ইচ্ছা- অনিচ্ছায় জপ করাকে বলে অসংখ্য জপ।

 

★8>এছাড়া অজপা জপ যে জপ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয় । এটি হলো সর্বোচ্চ স্তর, যা মনোযোগ বৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর।


তবে যত প্রকার জপ করা হয় তার মধ্যে নিঃকৃষ্ঠ জপ হলো বাচিক জপ,

এবং সর্বোৎকৃষ্ট জপ হলো মানস জপ।


বাচিক জপ শুরুর জন্য, উপাংশু মধ্যবর্তী এবং মানস জপ সর্বশ্রেষ্ঠ ও গভীরতর বলে গণ্য হয়। 

            (সংগ্রহীত)

================




        




Friday, March 13, 2026

36>>শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম জপ করার অধিকার

 36>শ্রীশ্রীঠাকুরের নাম জপ করার অধিকার শ্রীশ্রীঠাকুরের কৃপায় পেয়েছো, এটাও বলতে পারো তোমার পূর্বের পুণ্যকর্মের ফলস্বরূপ এই অধিকার পেয়েছো। এখন এটাই মনে করো তোমার গাড়ী চলা শুরু করেছে, এখন ক্রমশঃ গতি বাড়াতে হবে, নিশ্চিন্ত থাকো, প্রভুই তোমাকে রক্ষা করে যাচ্ছেন, ওনার উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখো এবং এটাই বিশ্বাস করো উনিই তোমার সঙ্গে আছেন, সর্বক্ষণ তোমার হৃদয় কমলে সমাসীন হয়ে তোমাকে দিশা নির্দেশ করছেন। আরো একটা কথা যে উনার সব কথাকে তুমি বুঝতে পারছ না। ঠিক আছে, চিন্তা করো না, ধীরে ধীরে হয়ে যাবে। সর্বক্ষণ প্রত্যেক কাজের মধ্যে যদি প্রভুর নাম নেওয়ার অভ্যাস করতে পারো তবে তোমাদের দুজনের জীবনও ধন্য হয়ে যাবে।


গহণ আনন্দ চিন্তন – প্রথম ভাগ (পৃষ্ঠা ২৮৬)

=======================

35>গুরু মহারাজ শ্রী স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ।::----

 35>গুরু মহারাজ শ্রী স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ।::----(সংগ্রহীত)

       

আজ ১১ ফেব্রুয়ারি।  রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের একাদশ অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজের আজ শুভ জন্মদিন। 

স্বামী গম্ভীরানন্দের পূর্বাশ্রমের নাম যতীন্দ্রনাথ দত্ত।  জন্ম১৮৯৯ সালে বাংলাদেশের সিলেট জেলায় সাধুহাটি গ্রামে। সাধুহাটি গ্রামে তাঁর পড়াশোনার সূচনা হয়। ওখানকার মৌলভীবাজার হাইস্কুলে তিনি ভর্তি হন। তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। এরপর কিছুকাল শিলং সরকারি হাইস্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। ১৯১৭ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি পেয়েছিলেন স্কলারশিপ। উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য এরপরে তিনি কলকাতায় আসেন। ভর্তি হন স্কটিশ চার্চ কলেজে। থাকতেন কলেজের পাশে অগিলভি হোস্টেলে। কলেজে ফুটবল, ভলিবল ও রোয়িংএ তিনি দক্ষতার পরিচয় রাখেন। ১৯২২ স্নাতক পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পর বার্মার রেঙ্গুনে সামরিক বিভাগে একাউন্ট অফিসার রূপে চাকরিতে যোগদান করেন।

 ১৯২৩  এর মে মাসে ২৪ বছর বয়সে রামকৃষ্ণ সঙ্ঘে যোগদান করেন। স্বামী নির্বেদানন্দ পূজনীয় মহাপুরুষ মহারাজের অনুমোদনক্রমে তাঁকে দেওঘরে নিয়ে যান। দুবারে তিনি  বিদ্যাপীঠে ছিলেন প্রায় ১১ বছর।১৯২৩-১৯২৯ ও ১৯৩১-৩৫ পর্যন্ত প্রথমে কর্মী, পরে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ ছিলেন স্বামী গম্ভীরানন্দ। দেওঘরে থাকতে থাকতেই তাঁর ব্রহ্মচর্য মন্ত্রদীক্ষা ও সন্ন্যাস সবই লাভ করেন মহাপুরুষ মহারাজের কাছ থেকে। ১৯২৩ ডিসেম্বর মাসে শ্রীশ্রীমায়ের শুভ জন্মতিথি দিন ব্রহ্মচর্য লাভ করেন। তাঁর নাম হয় ব্রহ্মচারী সৌম্যচৈতন্য। 

১৯২৮সালের কাশী অদ্বৈত আশ্রম এ স্বামীজীর জন্ম তিথির দিন  রামকৃষ্ণ সংঘের দ্বিতীয় অধ্যক্ষ স্বামী শিবানন্দজী তাঁকে সন্ন্যাস প্রদান করেন। নাম হয় শ্রীমৎ স্বামী গম্ভীরানন্দ।

১৯৩৬-৪১ ও ১৯৪৫-৪৭  রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন স্বামী গম্ভীরানন্দ।

  মায়াবতীতে তিনি '৪২-৪৪ সাল পর্যন্ত প্রবুদ্ধ ভারত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।১৯৪৭ থেকে ৫৩ পর্যন্ত তিনি ছিলেন মঠ মিশনে  সহকারি সম্পাদক। তারপর ৫৩-৬৩ তিনি ছিলেন অদ্বৈত আশ্রম এর প্রেসিডেন্ট।

১৯৬৩ সালে তিনি আবার সহকারী সম্পাদক, ১৯৬৬ সালে তিনি নির্বাচিত হন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক।

১৯৭৯ সালে তিনি নির্বাচিত হন রামকৃষ্ণ সংঘের ভাইস প্রেসিডেন্ট রূপে। ভাইস প্রেসিডেন্ট অবস্থায় তিনি অধিকাংশ সময় রাঁচীতে অবস্থান করতেন।

১৯৮৫ থেকে চার বছর তিনি ছিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ।

গম্ভীরানন্দে প্রথম বই 'স্তবকুসুমাঞ্জলি'। 

এরপর তিনি এক এক করে লেখেন উপনিষদ গ্রন্থাবলী(৩ খন্ড), শ্রীরামকৃষ্ণ ভক্তমালিকা

( ২ খন্ড) 

শ্রীমা সারদা দেবী।

 সিদ্ধান্ত লেশসংগ্রহ, যুগনায়ক বিবেকানন্দ,

ও কঃ পন্থা। 

ছাড়াও আছে তাঁর ইংরেজিতে লেখা বহু বই। গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশন ইনস্টিটিউট অফ কালচার কর্তৃক প্রকাশিত কালচারাল হেরিটেজ এর তৃতীয় খন্ড এবং স্বামীজীর ইংরেজি রচনাবলীর আটটি খন্ড সম্পাদনা করেন স্বামী গম্ভীরানন্দ। তাঁর  সর্বশেষ অনূদিত ইংরেজি গ্রন্থ গীতার মধুসূদন সরস্বতীর টিকা।

রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের কয়েকটি নতুন শাখা কেন্দ্র সংযোজিত হয় গম্ভীরানন্দজির সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে- অরুণাচলের আলং, তিরাপ, ইটানগর,আসামের গৌহাটি, হায়দ্রাবাদ ও মধ্যপ্রদেশের রায়পুরে। অসুস্থ বৃদ্ধ সাধুদের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেলুড়মঠে গড়ে তোলেন আরোগ্য ভবন। 

মঠে যোগদানকারী নতুন ব্রহ্মচারীদের জন্য তিনি গড়ে তোলেন ব্রহ্মচারী শিক্ষণ কেন্দ্র (PPTC)।

 সংঘের অধ্যক্ষ রূপে গম্ভীরানন্দজী প্রথম মন্ত্র দীক্ষা দেন মঠের পুরাতন ঠাকুর ঘরে। সেদিন ছিল ২৯শে মে ১৯৮৫ দশহারার দিন।

রামকৃষ্ণ মিশন সেবাপ্রতিষ্ঠানে ১৯৮৮ এর ২৭ শে ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭-২৭ মিনিটে তিনি শ্রীরামকৃষ্ণলোকে যাত্রা করেন।


ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে আজ তাঁর ১২৭তম শুভ জন্মদিন। 

রামকৃষ্ণ সংঘের একাদশ অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী গম্ভীরানন্দজীর  শ্রীচরণে জানাই আমার ভক্তিপূর্ণ শতকোটি সাষ্টাঙ্গ প্রণাম।


 জয় শ্রীগুরু মহারাজজী কি জয়।

জয় মহামাইকি জয়।

       ( সংগ্রহীত)


34>ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের:::---

 

34>ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের:::---
      (সংগ্রহীত)

শ্রী ম লিখিত কথামৃতের পাতায় পাতায়
অমৃত অক্ষরে লেখা আছে
ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকারের নাম।
===============

ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার (১৮৩৩-১৯০৪) ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন বিশিষ্ট বাঙালি চিকিৎসক, সমাজ সংস্কারক এবং ভারতে বিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে চিরস্মরণীয়। তিনি ১৮৭৬ সালে ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স (IACS) নামক প্রথম ভারতীয় বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন, যা ভারতে আধুনিক বিজ্ঞান চর্চার ভিত্তি স্থাপন করেছিল ।

তাঁর স্মরণীয় হওয়ার প্রধান কারণগুলো নিচে দেওয়া হলো:

★1>বিজ্ঞান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা: ১৮৭৬ সালের ২৯ জুলাই তিনি 'ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স' (IACS) প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন নোবেল বিজয়ী গবেষণা করেছিলেন ।
2>চিকিৎসা বিজ্ঞান ও হোমিওপ্যাথি: অলপ্যাথি ডাক্তার হয়েও হোমিওপ্যাথিতে বিশ্বাস স্থাপন করে তিনি এর প্রসারে বড় ভূমিকা রাখেন। ১৮৬৮ সালে তিনি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার স্বপক্ষে মত দেন এবং 'ক্যালকাটা জার্নাল অফ মেডিসিন' প্রকাশ করেন ।

★3>বিজ্ঞান চর্চার প্রসারে: তিনি ভারতীয়দের মধ্যে মৌলিক বিজ্ঞান গবেষণার মানসিকতা তৈরি করতে চেয়েছিলেন এবং স্বদেশী আন্দোলনের সময় বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর জোর দেন ।

★4>সমাজ সংস্কার: তিনি মেয়েদের বিবাহের বয়স সর্বনিম্ন ১৬ বছর করার সরকারি উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন ।

★5>কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় এমডি, ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার চিকিৎসাবিদ্যার পাশাপাশি ভারতে বিজ্ঞান ও গবেষণার অগ্রগতির জন্য স্মরণীয়


মহেন্দ্রলাল সরকার; 2 নভেম্বর 1833 - 23 ফেব্রুয়ারি 1904) একজন বাঙালি মেডিকেল ডাক্তার।

■■■■■■■■■■■■■■■■■■
ডাক্তারবাবু যখন বললেন আমার ভিজিট বত্রিশ টাকা।  বিস্ময়ে দুই ভাই চোখাচোখি করল। এই টাকা দিতে তারা যে অপারগ এমন নয় কিন্তু ইংরেজ ডাক্তাররা যেখানে ষোলো টাকা পর্যন্ত ফি নেয় সেখানে এই বঙ্গসন্তান চিকিৎসক চাইছেন দ্বিগুণ অর্থ। তাছাড়া অ্যালোপ্যাথদের তুলনায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ফি অনেক কম!দ্বিধান্বিতভাবে মনিভূষণ পার্স খুলতে ডাঃ মহেন্দ্রলাল বললেন এখন থাক। তিন দিন পরে রুগী নিজে আমার চেম্বারে যাবে ওষুধ নিতে। যদি যেতে না পারে আমার একটা পয়সাও লাগবে না। রোগ না সারিয়ে মহীন সরকার পয়সা নেয় না।

১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দের ২ নভেম্বর মহেন্দ্রলাল সরকারের জন্ম হয়। জন্মস্থান হাওড়া জেলার পাইকপাড়া গ্রামে। বাবার নাম তারকনাথ, মায়ের নাম অঘোরমণি। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি পিতাকে হারান।  ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার কিংবদন্তি চিকিৎসক, তাঁকে ঘিরে প্রচলিত নানা কাহিনী। মেডিকেল কলেজের নামজাদা ছাত্র এম ডি পাশ করেছিলেন প্রথম হয়ে। অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসক হয়ে প্রথম জীবনে টক্কর দিতেন সাহেব ডাক্তারদের ‌। এদেশের বিজ্ঞান প্রসারের জন্য তিনি ' ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সায়েন্স ' প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু নিজের জীবনে আশ্চর্য রকমের একটি পরিবর্তন হল। হোমিওপ্যাথির তীব্র বিরোধী ছিলেন তিনি এখন অ্যালোপ্যাথি ছেড়ে হোমিওপ্যাথ ডাক্তার হয়েছেন।

মহেন্দ্রলাল সরকারের কাছে রোগী রোগীই। আপনি,আজ্ঞে না বলে সবার সঙ্গে তুমি তুমি করে কথা বলেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসের গলা পরীক্ষার জন্য  ডাক্তারের সামনে বসানো হয়েছে, বললেন কই দেখি হাঁ করো! ডাক্তারের এক সহকারী একটা লণ্ঠন উঁচু করে ধরে তাঁর পাশে বসে আছেন। রামকৃষ্ণ ছোট হাঁ করেছেন, মহেন্দ্রলাল ঠিক মত দেখতে পাচ্ছেন না। তিনি বললেন আরও বড় হাঁ করো। সেই অবস্থায় রামকৃষ্ণ পরমহংস কিছু কথা বলতে যেতে মহেন্দ্রলাল বললেন জিভ নাড়লে আমি কি ভাবে দেখবো! তিনি রামকৃষ্ণের জিভ চেপে ধরেছিলেন। সেদিন খানিকটা যন্ত্রনা পেয়েছিলেন তিনি । প্রসঙ্গ উঠলে বলতেন না না গরুর জিভ টানার মতন টেনেছিল।

মহেন্দ্রলাল ধুতি, চাদর আর চটি পরতেন। মাংস-পেঁয়াজ খেতেন না। শুধু মাছ খেতেন। বাড়িতে অনেক গরু ছিল। প্রচুর দুধ হত। দামি ঘোড়ার গাড়ি ও ভাল ঘোড়া ছিল তাঁর। কারণ সারা দিন বিভিন্ন জায়গায় রোগী দেখতে ও বক্তৃতা দিতে ছুটতে হত। আর ছিল বিরাট লাইব্রেরি। সময় পেলেই লেখালিখি করতেন। স্কুল জীবনে কখনও দ্বিতীয় হননি। অসম্ভব মেধাবী ছাত্র বললে একটু কমই বলা হয়। কৃতিত্বের সঙ্গে ১৮৬০ সালে মেডিসিন ও সার্জারিতে লাইসেনসিয়েট (এলএমএস) পাশ করেন। তিন বছর পর এমডি হন। ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় এমডি।
আধুনিক ভারত ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকার কে চিরদিন মনে রাখবে আধুনিক বিজ্ঞানের প্রসারে তিনি ১৮৭৬ সালে ভারতবর্ষের প্রথম বিজ্ঞান সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অব সায়েন্সে  প্রতিষ্ঠা করেন।বৌবাজার স্ট্রিটে, একটা ভাড়াবাড়িতে এই প্রতিষ্ঠানের পথ চলা শুরু । চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমন সেই প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করেই পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেলেন। মহেন্দ্রলাল সরকারের আপাত-কঠোর স্বভাবের আড়ালে ছিল এক সংবেদনশীল মন। সত্যি কি তাঁকে গভীর ভাবে প্রভাবিত করেছিলেন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ? মানসিকতা ও ধ্যানধারণার বিপুল অমিল সত্ত্বেও রামকৃষ্ণ ও মহেন্দ্রলাল অমোঘ মোহময় বাঁধনে আবদ্ধ থেকেছেন শেষ পর্যন্ত।  তাঁর সঙ্গে মিশেছিলেন বন্ধুর মত। বুদ্ধিদীপ্ত তর্কবিতর্ক-আলোচনা চলত, পরস্পরের যুক্তি খণ্ডনও করতেন।  মানসিকতা ও ধ্যানধারণার বিপুল অমিল কিন্তু অটুট মোহময় বাঁধন।কথামৃতের পাতায় পাতায় ভরা রয়েছে রামকৃষ্ণদেব ও তাঁর চিকিৎসক মহেন্দ্রলাল সরকারের বহু কথোপকথন। নিজের কর্মকৃতিত্বে ও দক্ষতায় সে যুগের প্রথিতযশা এই অ্যালোপ্যাথি তথা হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসককে ইতিহাস মনে রেখেছে আজীবন বিজ্ঞান-অনুসন্ধান, বিজ্ঞানসভার প্রতিষ্ঠার জন্য এবং শ্রীরামকৃষ্ণের চিকিৎসক হিসেবে। আজ চিকিৎসক তথা ভারতীয় বিজ্ঞানের অন্যতম প্রাণপুরুষ ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকারের প্রয়াণ দিবসে আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।
        (সংগ্রহীত)
=======================

Tuesday, February 24, 2026

33>গিরিশচন্দ্র ঘোষ::----

   33>গিরিশচন্দ্র ঘোষ::----

স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ ----



  "আমি রাক্ষসী এক সন্তান খেয়েছি। পাছে আমার দৃষ্টিতে কোন অমঙ্গল হয়, তাই আমি একে কাছে আসতে দিতাম না।.... আমার হেলায় কত কষ্ট পেয়েছি---আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।"


গিরিশ ছিলেন রাইমণির অষ্টম গর্ভের সন্তান ; তাই পাছে মায়ের দৃষ্টিতে পড়িয়া সন্তানের অমঙ্গল হয়, এই ভয়ে জননী গিরিশকে কোনেরূপ আদর করিতেন না। তবে জননীর স্নেহে তিনি যতটুকু বঞ্চিত ছিলেন, পিতার আদর ততটুকু অধিক পাইতেন। অতঃপর একটি ঘটনায় গিরিশ বুঝিতে পারিলেন যে, তাঁহারই মঙ্গলকামনায় জননী এই অপূর্ব ত্যাগ স্বীকার করিয়াছেন।


একদিন গাল ও গলা ফুলিয়া বালক গিরিশ জ্বরে অজ্ঞান প্রায় হইয়া পড়িয়া আছেন, সেই সময় রাইমণি নীলকমলবাবুকে ব্যাকুল ভাবে বলিলেন, "তুমি যেমন করে পারো বাঁচাও।" অকস্মাৎ স্নেহের আতিশয্য দেখিয়া নীলকমল কারণ জিজ্ঞাসা করিলে রাইমণি বলিলেন, "আমি রাক্ষসী এক সন্তান খেয়েছি। পাছে আমার দৃষ্টিতে কোনো অমঙ্গল হয়, তাই আমি একে কাছে আসতে দিতুম না।..... আমার হেলায় কত কষ্ট পেয়েছে---আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।"


ইতঃপূর্বে বাইশ বৎসর বয়সে গিরিশের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যু হইয়াছিল। জননীর পুর্ণ স্নেহে বঞ্চিত থাকার আরেকটি কারণও ছিল। পুত্রপ্রসবের পর রাইমণি সূতিকারোগে শয্যাশায়িনী হন এবং মাতৃস্তনে বঞ্চিত গিরিশ এক বাগদি মেয়ের স্তন্যপানে বাধ্য হন। জননী অতঃপর দীর্ঘদিন ধরাধামে ছিলেন না----গিরিশের দশ বৎসর বয়সে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। 


গিরিশের বাল্যজীবনের শিক্ষা-দীক্ষা সাধারণ গতিতেই অগ্রসর হইতেছিল। বিশেষ এই যে, পিতার আদরের দুলাল গিরিশ বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বড়ই আবদারে হইয়া উঠিতেছিলেন ; যেখানে বাধা পাইতেন সেখানেই তাঁহার অশান্ত ভাব দ্বিগুণ শক্তিতে আত্মপ্রকাশ করিত। জুজুর ভয় দেখাইলে তিনি জুজুর সহিত সাক্ষাৎ করিতে অগ্রসর হইতেন। পুত্রের এই প্রকৃতির পরিচয় পাইয়া পিতা সম্ভবক্ষেত্রে মোটেই বাধা দিতেন না।


গৃহদেবতা শ্রীধরকে নিবেদন করিবেন মনে করিয়া জেঠাই-মা বাগানের প্রথম শশাটি কুটো-বাঁধা করিয়া রাখিয়াছেন। গিরিশের উহা খাইবার ইচ্ছা হইল, তাই পিতার বাড়ি ফিরিবার পূর্বে কান্না শুরু করিলেন, "তেষ্টা পেয়েছে"-----"জলখাবার তেষ্টা নয়" বা "বাজারের শশা খাবার তেষ্টা নয়, খিড়কির বাগানের শশা খাবার তেষ্টা।" বাবার আদেশে শশা গিরিশের হাতে আসিল। জেঠাই-মা দেবরকে বারণ করিলে নীলকমল উত্তর দিলেন, "বালক যার জন্য এত করে কাঁদছে, শ্রীধর তা কি তৃপ্তি করে খাবেন ?"


🌼জয় মা

🕉️জয় ঠাকুর

🕉️জয়গুরু মহারাজ🌼

  

গিরিশচন্দ্র ঘোষ 

স্বামী গম্ভীরানন্দ মহারাজ 

====================


Saturday, January 24, 2026

32>কামাড় পুকুর--to--> 7.3km জয়রামবাটি

 32>কামাড় পুকুর--to--> 7.3km জয়রামবাটি

---to-->6.7 km কোয়ালপাড়া--

 -to--->4.9 km কোতলপুর।

কোতল পুর to জয়রামবাটি 12km.


জয়রামবাটি পিন কোড:-722161


কোয়ালপাড়া আশ্রম যাকে সকলে বলতেন মা সারদার বৈঠক খানা জয়রামবাটি থেকে ৬ কিলো মিটার দূরে । মা যখন বিষ্ণুপুর হয়ে ট্রেনে কলকাতা যেতেন তখন যাওয়ার পথে এই কোয়ালপাড়া এসে থাকতেন । 

সুন্দর শান্তির নীড় এই কোয়ালপাড়া যোগাশ্রম । এখানে খুব বেশি ভক্তের ভিড় নেই।

আমরাএখানে  প্রসাদ পেয়েছিলাম । এখানে মাকে মৎসোভোগ দেওয়া হয় । আজকের মেনু ভাত, ডাল, আলুসিদ্ধ, আলু ভাজা, পাঁচ মিশালী তরকারি, মাছের মাথা দিয়ে বাঁধাকপি, আলু পোস্ত ও মাছের ঝোল ।

 মনে হলো যেন মায়ের হাতের বাড়ির রান্না খেলাম ।


==============

কোতুলপুর  সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক

পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর মহকুমার উন্নয়ন ব্লক,একটি প্রশাসনিক বিভাগ।

পিন কোড:--722141.


★★কোতুলপুরে

★ভাগলপুর গ্রামে কৃষ্ণ রায় জিউ মন্দির।


★কোতলপুরের গুরুত্বপূর্ণ নদী হল "আমোদর" ( দামোদর নয়)। এটি কনুচিয়াকল নামক স্থানের একটি ঝরনা থেকে উদ্ভূত। এই নদী কৃষিকাজ এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে। এটি প্রায় দক্ষিণ-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির কিছু ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। গড় মান্দারণ (কাছাকাছি একটি স্থান, বর্তমানে হুগলি জেলায় অবস্থিত এবং তখনকার রাজ্যের রাজধানী) এই নদী দ্বারা বেষ্টিত। মুঘল যুগে একটি যুদ্ধে কোটলু খান পরাজিত হন এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। এই কোটলু খানের নামেই কোতুলপুরের নামকরণ করা হয়েছে।


প্রায় সপ্তম শতাব্দী থেকে ব্রিটিশ শাসনের সূচনা পর্যন্ত, প্রায় এক হাজার বছর ধরে বাঁকুড়া জেলার ইতিহাস বিষ্ণুপুরের হিন্দু রাজাদের উত্থান ও পতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৭শ শতকের শেষের দিকে বিষ্ণুপুর রাজারা শিখরে পৌঁছালেও, ১৮শ শতকের প্রথমার্ধে তাদের পতন শুরু হয়। প্রথমে বর্ধমানের মহারাজা ফতেপুর মহল দখল করেন এবং পরবর্তীতে মারাঠাদের আক্রমণে এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়।


১৭৬০ সালে বিষ্ণুপুরকে বর্ধমান চাকলার সঙ্গে ব্রিটিশদের কাছে সমর্পণ করা হয়। ১৭৮৭ সালে বিষ্ণুপুরকে বীরভূমের সঙ্গে যুক্ত করে একটি পৃথক প্রশাসনিক ইউনিট গঠন করা হয়। ১৭৯৩ সালে এটি বর্ধমান কালেক্টরেটে স্থানান্তরিত হয়। ১৮৭৯ সালে, বর্তমান জেলার আকার গঠিত হয় যখন খাতড়া এবং রাইপুর থানা এবং সিমলাপাল পোস্ট মানভূম থেকে বাঁকুড়ায় যুক্ত হয়। একইসঙ্গে সোনামুখী, কোতুলপুর এবং ইন্দাস থানাগুলি বর্ধমান থেকে বাঁকুড়ায় স্থানান্তরিত হয়। তবে এটি কিছু সময়ের জন্য পশ্চিম বর্ধমান নামে পরিচিত ছিল এবং ১৮৮১ সালে বাঁকুড়া জেলা নামে পরিচিতি পায়।


দর্শনীয় স্থান

★জয়রামবাটি - শ্রীরামকৃষ্ণের স্ত্রী সারদা দেবীর জন্য বিখ্যাত।

শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ জিউ মন্দির, হরিহর জিউ মন্দির, শ্রী গণেশ জিউ মন্দির, শ্রী ভৈরব ঠাকুর জিউ মন্দির: এই মন্দিরগুলি ১৯০৭ সালের আশেপাশে প্রয়াত ক্ষেত্রমোহন রক্ষিতের উদ্যোগে নির্মিত হয় এবং বর্তমানে এগুলি শতাধিক বছরের পুরনো। প্রতিবছর এখানে ৩ দিনের ঝুলন যাত্রা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় মানুষজন এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। এই মন্দিরগুলি কোতুলপুরের রক্ষিতপাড়ায় অবস্থিত।


★কোয়ালপাড়া - সারদা দেবীর আরেকটি বাড়ি দেখার জন্য পর্যটকেরা ঘুরে বেড়ান। এখানে তিনি ব্রিটিশ শাসকদের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলনকে উৎসাহিত করতেন।

সিহার - এখানে ২৬৭ বছরের পুরানো ডাঃ গুণময় মুখার্জীর পরিবারের শ্রী শ্রী রঘুনাথের একটি পঞ্চরত্ন মন্দির এবং ১৫০ বছরের পুরানো শ্রী শ্রী দূর্গা মন্দির, শ্রী শ্রী শান্তিনাথ মন্দির (মন্দিরের শিল্প জৈন যুগের), শ্রী শ্রী রতন্তী কালিকা মন্দির (শ্রীশ্রী রটন্তী কালিকা মন্দির) রয়েছে। শিবানন্দ সরস্বতী, শ্রী শ্যামানন্দ সরস্বতী) এবং শ্রী সারদা মঠ গ্রামকে দর্শনীয় পরিণত করেছে।

★কোতুলপুর - কোতুলপুর শ্রীধর মন্দির


======================




Thursday, July 10, 2025

31>শিলং শহরের এক অলৌকিক ঘটনা লেখক: স্বামী ভাস্করানন্দ

 31>শিলং শহরের এক অলৌকিক ঘটনা

লেখক: স্বামী ভাস্করানন্দ

মা সারদা দেবীর করুণাময় আশীর্বাদের এক অমোঘ নিদর্শন::---

ঘটনাটা বহু বছর আগের। আমি তখন বেলুড় মঠে কর্মরত, রামকৃষ্ণ মিশনের সদর দপ্তরে।  একদিন সকালে এক অচেনা ভদ্রলোক আমার সঙ্গে দেখা করতে এলেন।  পরনে ছিল বেশ পরিপাটি পোশাক, বয়সটা পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি হবে।

স্বাভাবিক কুশল বিনিময়ের পর তিনি হঠাৎ বললেন, "আপনি কি কখনো শুনেছেন মা সারদা দেবীর শিষ্য, শিলংয়ের পঞ্চানন ব্রহ্মচারীর কথা?"

আমি একটু ভাবলাম, তারপর বললাম, "হ্যাঁ, বহু বছর আগে এক প্রবীণ সন্ন্যাসী ওঁর কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, ওঁর জীবনে একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। তবে দুঃখের বিষয়, এখন আমি পুরো ঘটনাটা ঠিক মনে রাখতে পারিনি।"

এই কথা শুনে ভদ্রলোকের চোখে জল এসে গেল। কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, "আমি ওঁরই ছেলে। খুবই অযোগ্য সন্তান। আমার বাবা একজন মহাভক্ত ও সাধু মানুষ ছিলেন।"

আমি তাঁকে বললাম, "তাহলেलP আপনি নিজেই আমাকে বলুন না, কী ঘটেছিল আপনার বাবার সঙ্গে।"

ভদ্রলোক একটু থেমে শুরু করলেন সেই অলৌকিক কাহিনিঃ

ঘটনাটা ১৯১২ সালের, মা সারদা দেবী তখন জীবিত ছিলেন। আর আমার বাবা, পঞ্চানন ব্রহ্মচারী, শিলংয়ে একজন স্কুলশিক্ষক ছিলেন। সে সময় ব্রিটিশ সরকার সাময়িকভাবে আসামের রাজধানী শিলং থেকে ঢাকায় সরিয়ে নেয়। ফলে শিলং প্রায় জনমানবহীন হয়ে পড়ে। রাস্তার ধারে অধিকাংশ বাড়ি ফাঁকা। 

বাবার পাড়াতে আশিটার মতো বাড়ি ছিল, তার মধ্যে মাত্র তিনটেতে মানুষ থাকত, বাকি সব ফাঁকা ছিল। এই সুযোগে কিছু উপজাতি ছেলে ওই খালি বাড়িগুলোতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে, এমনকি কিছু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

বাবা তখন নিজের বাড়িতে না থেকে, শিলং শহরের একজন সম্ভ্রান্ত মানুষ, ভূপাল চন্দ্র বসু রায়বাহাদুরের বিশাল বাড়িতে থাকতেন। মিঃ বসু কলকাতায় ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন এবং অনুরোধ করেছিলেন যেন বাবা তাঁর বাড়ির দেখাশোনা করেন।

একদিন বাবা নিজের পুরোনো বাড়িতে কিছু মেরামতির কাজ করাচ্ছিলেন। তিনজন নেপালি শ্রমিক সেই কাজ করছিল। হঠাৎ বাবার চোখ পড়ল, রাস্তার নীচে একটা বাড়িতে আগুন লেগেছে।

ওই বাড়িটি ছিল ব্রিটিশ শাসিত ভারতের অধীনে একটা রাজকীয় রাজ্য — বিজনীর রানীর।*  রানীর সম্পত্তি, একটা রাজকীয় বাংলো। ছোট ভবনটা আগুনে পুড়ে যাচ্ছিল, আর পাশের বড় ভবনটাতে আগুনের শিখা লাফিয়ে পড়ার উপক্রম।

বাবা সময় নষ্ট না করে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে এক বালতি জল এনে এক নেপালি শ্রমিককে দিলেন এবং নিজে ছাদে উঠে গেলেন আগুন নেভাতে। 

কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত জলটার অনেকখানি ছলকে পড়ে গিয়েছিল, ততক্ষণে আগুন বড় ভবনের খড়ের ছাদে লাফিয়ে পড়েছে। বিশ ফুট উঁচু আগুন বাবাকে ঘিরে ফেলেছে। বাবা বুঝলেন, মৃত্যু আসন্ন।

তিনি তখন প্রাণপণে মা সারদা দেবীর নামে ডাকতে লাগলেন—

"মা! মা! আমাকে রক্ষা করো!"

আর ঠিক তখনই ঘটল অলৌকিক ব্যাপারটা। মা সারদা দেবী যেন আকাশপথে উড়ে এসে তাঁর সামনে আবির্ভূত হলেন। শরীর থেকে বিদ্যুতের মতো আলো ঝলমল করছিল, চোখ দু’টো থেকে অতিমানবিক করুণার ছটা বেরোচ্ছে। তিনি বললেন, “ভয় পেও না, বাছা! আমি এসেছি!”

মা হাত তুলে ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গে আগুনের জ্বলন্ত শক্তি নিস্তেজ হয়ে গেল। বাবা আর কোন আগুনের উত্তাপ অনুভব করলেন না।

এরপর বাবা প্রায় তিন ঘণ্টা জ্ঞান হারিয়ে ছাদের উপর পড়ে ছিলেন। যখন জ্ঞান ফিরে পেলেন, তখন দেখলেন ছোট বাড়িটা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, কিন্তু বড় বাড়ির ছাদের একটু খড়ও পোড়েনি!

যখন বাবা ছাদে বসে আছেন, তখন নিচে দাঁড়িয়ে থাকা নেপালি শ্রমিকরা অবাক হয়ে বলল,

"স্যার, আপনি বেঁচে আছেন! আমরা তো দেখলাম আগুনে আপনি পুড়ে যাচ্ছেন, আর শুধুমাত্র শুনলাম আপনি ‘মা! মা!’ বলে চিৎকার করছেন। তারপর আর কোনও আওয়াজ পাইনি। আমরা ভাবলাম আপনি মারা গেছেন।"

শ্রমিকরা বাবাকে নিচে নামিয়ে আনল। দেখল, শুধু মুখে কয়েকটা ফোস্কা পড়েছে, বাকি শরীরে কোনও ক্ষতি হয় নি।

কয়েকদিনের মধ্যেই বাবার মুখ ভীষণভাবে কালো হতে শুরু করল, চেনা মানুষজনও তাঁকে চিনতে পারছিল না। এক ডাক্তার বন্ধু জানালেন, পোড়া ত্বকের স্তর উঠে গেলে নিচে সাদা দাগ দেখা যাবে, যেন লিউকোডার্মা (শ্বেতী জাতীয় সাদা দাগ) হয়েছে।

এই খবর বাবাকে একটু বিচলিত করল। একদিন খুব ভোরে, মা সারদা দেবী আবার বাবার কাছে এসে-দর্শন দিলেন। বললেন,

"বাছা, তুমি কি মুখের এই রূপে কষ্ট পাচ্ছো? একবার বলো, আমি তোমার মুখ ফের ঠিক করে দেবো।"

বাবা কেঁদে বললেন,

"মা, আমি তোমার কাছে এমন তুচ্ছ কিছু চাইতে পারি না। যদি কিছু চাইতেই হয়, তাহলে আরও মহার্ঘ কিছু চাইবো তোমার কাছ থেকে।"

মা হেসে বললেন,

“যদি তাই হয়, তাহলে আমি নিজেই বলছি—বাংলা বছরের শেষ দিনে, কাছে যে ঝর্ণাটা আছে, সেখানে গিয়ে স্নান করলেই তোমার মুখ আগের মতো হয়ে যাবে।”

বাবা প্রথমে এই কথা কাউকে বলেননি। পরে যখন কথাটা ছড়িয়ে পরল, তখন অনেকে—বিশেষ করে ব্রাহ্ম সমাজের লোকেরা—তামাশা করতে লাগল। কেউ সেটা বিশ্বাস করেনি।

বাবা চিন্তিত হয়ে পড়লেন—উনি ব্যর্থ হলে মায়ের নামেই তো লোক হাসবে! তাই শেষ পর্যন্ত স্নান না করার সিদ্ধান্ত নিলেন।

কিন্তু বাংলা বছরের শেষ দিনে, যেন এক অদৃশ্য শক্তির টানে, বাবা নিজেই ঝর্ণার দিকে রওনা দিয়ে স্নান করে ফিরে এলেন।

দেখলেন, দুজন পরিচিত তাঁর বাড়িতে এসে অপেক্ষা করছে। তারা অবাক হয়ে দেখে, বাবার মুখে আর কোনও দাগ নেই। আগুনে পোড়া মুখ একেবারে আগের মতো সুন্দর!

গভীর আবেগে ভদ্রলোক বললেন,

"এই ছিল আমার বাবার জীবনে ঘটে যাওয়া অলৌকিক ঘটনা। রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসীরা এটিকে সত্য ঘটনা হিসেবেই গ্রহণ করেছিলেন। পরে আমার বাবা এই গল্পটা তাঁর বন্ধু আচার্য জগদীশ মুখোপাধ্যায়কে একটি চিঠিতে লিখে পাঠান। সেই চিঠি ১৯৩৯ সালে ‘উদ্বোধন’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল।

*বিজনী ছিল আসাম রাজ্যের বর্তমান চিরাং জেলার অন্তর্গত একটি ঐতিহাসিক রাজ্য, যা ভারত-ভুটান সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থিত। এই রাজ্যটি কোচ রাজা চন্দ্রনারায়ণ, যিনি পরবর্তীতে বিজিত নারায়ণ নামে পরিচিত ছিলেন, তিনি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর নাম থেকেই ‘বিজনী’ নামের উৎপত্তি। ঐ বাড়িটা তখন ফাঁকা পড়ে ছিল, কারণ শহরের অনেক বাড়ির মতোই সেটিও তখন পরিত্যক্ত ছিল।”

এই ছিল শিলংয়ের পঞ্চানন ব্রহ্মচারীর জীবনের এক সত্যিই অসাধারণ ও অলৌকিক ঘটনা, যা মা সারদা দেবীর করুণাময় আশীর্বাদের এক অমোঘ নিদর্শন।

 #মাসারদা #অলৌকিক #সত্য #সনাতন

         【  সংগৃহীত】

==========================