Friday, March 27, 2026

37>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা +3 ||

 37/1>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা ||

      2>|| ধ্যান জপ কি ভাবে করবে ||

      3>|| মন চাঙ্গা তো কাঠতি মে গঙ্গা ||

       4>|| ইষ্ট নাম জপের প্রকার ভেদ ||

================================

 37/1>|| মনুষ্য জন্ম সত্যই ঈশ্বরের কৃপা   ||


★ঈশ্বরের প্রথম কৃপা::--

মনুষ্যদেহে জন্মানোটাই প্রথম কৃপা।


★ দ্বিতীয় কৃপা।:--

মনুষ্যদেহে জন্মানোটাই যথেষ্ট নয়, সেইসঙ্গে মুক্তিলাভের প্রচণ্ড ইচ্ছাও থাকা দরকার। এই মুক্তিলাভের ইচ্ছাই ঈশ্বরের

দ্বিতীয় কৃপা। 


★তৃতীয় কৃপা হলো:-- 'মহাপুরুষসংশ্রয়ঃ'-কোনো মুক্তপুরুষের সান্নিধ্যলাভ এবং তাঁর ছত্রচ্ছায়ায় বেড়ে ওঠা। মহাপুরুষ কে? যিনি অসাধারণ আধ্যাত্মিকগুণসম্পন্ন।

অধ্যাত্মজীবনে এমন মানুষের পথনির্দেশ ও তত্ত্বাবধান আমাদের একান্ত প্রয়োজন। না হলে অবস্থা হয় ইঁদুরের মতো। কলে পড়ে ইঁদুর ছটফট করে, আর কেবলই মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বেরোবার পথ না জানায় সে কেবল ঐ কলের মধ্যেই ঘুরে মরে। বেরোবার পথ আছে। যে-পথ দিয়ে সে কলে ঢুকেছে, বস্তুত সেটিই পালাবার পথ; কিন্তু সে তা জানে না, এটাই তার দুর্ভাগ্য! মানুষের অবস্থাও তা-ই।


স্বামী রঙ্গনাথানন্দ (বিবেকচূড়ামণি ও তার মর্মবাণী-৩৯)

               

🌺জয় মা ,

🌺 জয় ঠাকুর,

🙏প্রণাম

          (সংগ্রহীত)

  <---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

===================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

    2>|| ধ্যান জপ কি ভাবে করবে ||

আমি জানি তুমি কখনো কখনো চেষ্টা করছো, এভাবে কখনো কখনো করলে হবে না কেমন চেষ্টা করতে হবে 

অনেকেই বলেন, “ধ্যানের সময়ে ভালভাবে মনঃসংযোেগ করতে পারছিনা। মন বড়ই চঞ্চল।” মা হেসে উত্তর দিলেন, “ওটা কিছু নয়। মনের ঐ স্বভাব, চোখ এবং কানের মতােই। নিয়মিত ধ্যান-জপ করে যাও। ভগবানের আকর্ষণ ইন্দ্রিয়ের আকর্ষণ থেকে অনেক বেশী শক্তিশালী। নিয়মিত অভ্যাস করলে সময়ে সব ঠিক হয়ে যাবে। সব সময় ঠাকুরের কথা ভাববে, তিনি তােমাকে সর্বক্ষণ দেখছেন। তােমার ত্রুটি সম্পর্কে একদম চিন্তা করবে না।" আমি বললাম, “মা, আশীর্বাদ করুন যাতে আমি নিয়মিত অভ্যাস করতে পারি।” মা মিষ্টি হেসে বললেন, “তােমার কথাবার্তা, কাজকর্ম ও অভ্যাস সম্পর্কে সৎ থাকবে। তাহলেই অনুভব করবে, কতখানি ধন্য তুমি। ঠাকুরের আশীর্বাদ সর্বক্ষণ জীবের উপর বর্ষিত হচ্ছে, তা চাওয়ার দরকার হয় না। ব্যাকুল হয়ে ধ্যান-জপ কর, তাঁর অসীম কৃপা বুঝতে পারবে। ভগবান চান ঐকান্তিকতা, সত্যবাদিতা, ভালবাসা। বাহ্যিক ভাববাচ্ছাস তাঁর কাছে পৌঁছায় না। নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে নামজপ করবে, মন্ত্রোচারণের সময়ে সর্বশক্তি দিয়ে মনকে একাগ্র করবে। যদি অন্য সমস্ত চিন্তা সরিয়ে দিয়ে হৃদয়ের গভীরতম আর্তির সঙ্গে তুমি প্রভুকে ডাকতে পার, তিনি সাড়া দেবেনই। করুণাময় তিনি। তােমার প্রার্থনা পূরণ করবেন।”

     ( সংগ্রহীত)

(পদপ্রান্তে ১/১৯৫)

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

=======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■


 3>|| মন চাঙ্গা তো কাঠতি মে গঙ্গা ||


 মানুষের মন প্রায়শই শুদ্ধতার চিন্তায় নানা ভাবে নিজেকে শারীরিক কষ্ট দেয়। এবং

অপরকেও দোষারোপ করতে ছাড়ে না।

নানান অবাস্তব উদ্ভট চিন্তায় নিজের মনেই নানা চিন্তার সৃষ্টি কিরে যেমন জপ করবো—বাসি কাপড়ে করবো, না কাপড় বদলে করবো?

বিছানায় বসে করবো, না আসনে বসে করবো?

স্নান না করে করলে কি দোষ হবে?”


এই সব প্রশ্ন আমাদের মনে বারবার আসে। কিন্তু ঠাকুর শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা ও স্বামী বিবেকানন্দ—তিনজনেই এক কথায় বলেছেন,


 ভগবান কোনো বিধিনিষেধের মধ্যে বাঁধা নন; বাঁধা থাকলে থাকেন আমাদের মনের ভিতর।


ঠাকুর বলতেন—


 “ডাকলেই তিনি আসেন। শুধু ডাকতে জানতে হবে।”


মা সারদা দেবী স্পষ্ট করে বলেছেন—


 “জপ-ধ্যানের আসল কথা হলো স্মরণ। শুদ্ধতা আগে মনের, পরে দেহের।”


আর স্বামী বিবেকানন্দ আমাদের শিখিয়েছেন—


 ভগবান আমাদের একেবারে নিজের জন।


 তাঁকে ডাকার জন্য যদি অজস্র নিয়ম মানতে হয়, তবে সে ডাক হৃদয়ের ডাক থাকে না—তা হয়ে ওঠে কেবল আচার।


স্বামী লোকেশ্বরানন্দ মহারাজ তাই বলেছেন—


শিশু যেমন মাকে ডাকবার আগে নিয়ম মানে না,

ঠিক তেমনই ভক্ত যখন ঈশ্বরকে ডাকে, তখন সময়–স্থান–বেশভূষার হিসাব করে না।


বিছানায় শুয়ে, কাজের ফাঁকে, অশ্রুসিক্ত চোখে,

চান করে বা চান না করেই—


 *যখন মনে পড়বে, তখনই ডাকাই হলো সত্যিকারের জপ।*


নিয়ম আছে—নিয়ম মানাও ভালো।

কিন্তু নিয়মের বাইরে ডাকবার স্বাধীনতাই ভক্তির প্রাণ।


★ সম্ভব হলে আসনে বসে ডাকবো,

★সম্ভব না হলে যেখানে আছি সেখান থেকেই ডাকবো,

★ আর সবচেয়ে বড় কথা—

সম্ভব হলে সবসময়ই তাঁকে স্মরণ করবো।


— স্বামী লোকেশ্বরানন্দ

      (সংগ্রহীত)

======================

■■■■■■■■■■■■■■■■■■■■

     4>|| ইষ্ট নাম জপের প্রকার ভেদ ||


শাস্ত্র মতে ইষ্ট নাম বা মন্ত্র জপ করা হয় নানান প্রকারে:---


1>হৃদয় জপ,

2>কন্ঠ জপ,

3>বাচিক জপ (উচ্চস্বরে),

4> মানস জপ,(মনে মনে)।

5> উপাংশু জপ,(ফিসফিস করে)

6>জিহ্বাজপ,

7>অসংখ্য জপ।

8>অজপা জপ।(শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবা জপ হয়)


★1>ইষ্ট নাম জপ যখন করাহয়  হৃদয়ে  তাকে বলে হৃদয় জপ।

★2>জপ যখন করা হয় শুধু মাত্র কন্ঠে তাকে বলে কন্ঠ জপ।


★3>জপ যখন করা হয় ঠোঁট নাড়িয়ে বা উচ্চারণ করে (উচ্চস্বরে), এই জপে মন্ত্র বা ইষ্টের নাম উচ্চস্বরে স্পষ্ট উচ্চারণ করে পাঠ করা হয় তাকে বলে বাচিক জপ।


★4>মন্ত্র মনে মনে উচ্চারিত হবে কিন্তু কানে শোনা যাবে না ঠোঁট , জিহবা কিছুই নড়বে না (মনে মনে) জপ হবে তাকে বলে মাসন জপ।

★5>মন্ত্র উচ্চারন হবে জিহবা নড়বে  কানে শোনা যাবে(ফিসফিস করে) তাকে বলে উপাংশু জপ।


★6> শুধু মাত্র জিহবা দ্বারা জপ করাকে বলা হয় জিহবা জপ।

★7>মেলায় সংখ্যা রেখে নয়, কর গুণেও নয় চলাফেরা করতে করতে ইচ্ছা- অনিচ্ছায় জপ করাকে বলে অসংখ্য জপ।

 

★8>এছাড়া অজপা জপ যে জপ শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে স্বয়ংক্রিয় ভাবে হয় । এটি হলো সর্বোচ্চ স্তর, যা মনোযোগ বৃদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর।


তবে যত প্রকার জপ করা হয় তার মধ্যে নিঃকৃষ্ঠ জপ হলো বাচিক জপ,

এবং সর্বোৎকৃষ্ট জপ হলো মানস জপ।


বাচিক জপ শুরুর জন্য, উপাংশু মধ্যবর্তী এবং মানস জপ সর্বশ্রেষ্ঠ ও গভীরতর বলে গণ্য হয়। 

            (সংগ্রহীত)

================




        




No comments:

Post a Comment