12>*মহাপুরুষ মহারাজের বাণী*
*সাধন ভজন প্রসঙ্গে:*
জপের কোন কালাকাল নেই যখনই সময় পাবে তখনই তাঁর নাম করবে। চলতে-ফিরতেও তাঁর নাম স্মরণ করবে। তখন করে জপ বা মালা জপ সম্ভব নয়, কারণ তাহলে যে লোকে দেখতে পাবে। ভগবানের নাম খুব গোপনে করতে হয়, যেন লোকে টেরও না পায়। আর তাঁর স্মরণ মনন করবে সর্বক্ষণ। একটা অভ্যাস জমিয়ে নিতে হয়। চলতে-ফিরতে খেতে-শুতে এমনকি সব কাজকর্মের মধ্যেও নিরন্তর তাঁর স্মরণ মনন করবে যেন--- একটা undercurrent ( অন্তঃস্রোত) চলছে। এইভাবে কিছুদিন অভ্যাস করলে দেখবে যে তোমার অজ্ঞাতসারে, এমনকি ঘুমের ভিতরও জপ চলেছে-- স্মরণ মনন ভিতরে ভিতরে চলেছে।
*ঠাকুর স্বামীজী প্রসঙ্গে:*
এ কি কম যুগ! এ মহাপুণ্য সময় এ যুগে যেই রামকৃষ্ণ নাম নেবে, তার জীবনকে আদর্শ করে ভগবান লাভের রাস্তায় এগুবে, তার পক্ষেই সব সহজ হয়ে যাবে। এখন রামকৃষ্ণের জীবনাদর্শে যদি কেউ নিজ নিজ জীবন গড়ে তোলে, তাঁর জীবনছাঁচে যদি নিজেদের জীবন ঢালাই করে নেয়, তবে তো তারপর পক্ষে ভগবান লাভ করা অতি সোজা।
**** *** ***
আমরা (রামকৃষ্ণ সংঘের সাধুরা) নিজেদের আদর্শ অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আর ওই আদর্শ রেখে গেছেন সেই দূরদর্শী ঋষি স্বামীজি নিজে। খালি ভারতের নয় সমগ্র জগতের সহস্র বৎসরের ছবি ফুটে উঠেছিল তাঁর দিব্য দৃষ্টির সামনে এবং তিনি সব ষ্পষ্ট দেখে, জেনে শুনে তবে একটা ধারা নির্ণয় করে গেছেন। তাঁর তো আর অন্ধকারে ঢিল ছোঁড়া নয়! তিনি সুদূর ভবিষ্যতে দৃশ্য সব পরিষ্কার দেখতে পেতেন। আর এই যুগে শ্রীরামকৃষ্ণরূপে যে ভগবৎশক্তির আবির্ভাব হয়েছে, তেমনটি শত শত বৎসরের মধ্যে আর হয়নি। এই আধ্যাত্বিক তরঙ্গ দীর্ঘকাল অবাধে সমগ্র জগতে চলবে। এই তো সবে সূচনা, সবে আরম্ভ। যে আধ্যাত্বিক সূর্য ভারতগগনে উদিত হয়েছে তার বিমল কিরণে সমগ্র জগৎ উদ্ভাসিত হবে । তাইতো স্বামীজী বলেছেন, "এবার কেন্দ্র ভারতবর্ষ।" ভারতকে কেন্দ্র করেই সেই আধ্যাত্মিক শক্তির বিকাশ হবে।ওই ঐশী শক্তির গতিরোধ করে কার সাধ্য। ভারতের জাগরণ অতি নিশ্চিত। শিক্ষা,দীক্ষা, শক্তি,সামর্থ্য, বিদ্যা,বুদ্ধি--- সব বিষয়ে ভারতের এত উন্নতি হবে যে সমগ্র জগৎ দেখে অবাক হয়ে যাবে। ভারতের ভবিষ্যৎ এত মহিমান্বিত যে তা অতীতের গৌরবকে ম্লান করে দেবে। তখন বুঝবে যে ঠাকুর-স্বামীজী কেন এসেছিলেন, এবং ভারতের জন্য তাঁরা কি করে গেছেন। ক্ষুদ্রবুদ্ধি মানব তাঁদের কার্যকলাপ কি বুঝবে? তাঁরা যে ভারতের জাতীয় কুণ্ডলিনী-শক্তিকে জাগ্রত করে দিয়ে গেছেন, তাও কি দেখতে পাচ্ছো না?
[মহাপুরুষজীর ১৫০ তম আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে বারাসত শ্রীরামকৃষ্ণ মঠের শ্রদ্ধার্ঘ্য "মহাপুরুষ মহারাজ" পুস্তিকা থেকে। পৃষ্ঠা ৭৭ ও ৮০ । দ্বিতীয় মুদ্রণ।জানুয়ারি ২০০৫ ]
(সংগ্রহীত)
<---আদ্যনাথ--->
===============
No comments:
Post a Comment