Monday, June 6, 2022

20>|| সুদর্শনে রাধা::----

 20>||সুদর্শনে রাধা::----(Mit-9/13)


শ্রীজগন্নাথদের মন্দির প্রাঙ্গণে কল্পগণেশ বিগ্রহ আছেন। একদিন মহাপ্রভু গৌরসুন্দর ঐ বটবৃক্ষের কাছ দিয়ে যাবার সময়' হঠাৎ থমকে দাঁড়ালেন। ঐ স্হানে ভাগবত পাঠ চলছে। ভাগবতের বাণী ওনার কানে প্রবেশ করলে দামোদরকে ডেকে বলরেন-- দেখতো দামোদর যিনি ভাগবত পাঠ করছেন উনি কে?


             "একদিন বটমূলে প্রবেশন কালে।

              স্তম্ভিত হইল বিশ্বম্ভর স্হির হেলে।।

              ভাগবত বাণী প্রভু কলেক শ্রবন।

               কেহ বলে দেখ দামোদর কুহুজন।।"

স্বরূপ দামোদর দেখে এসে বললেন--একজন উড়িয়া ব্রাহ্মণ পান্ডা পাঠ করছেন। তখন প্রভু বললেন, আমি এই কল্পবৃক্ষের শাখাশ্রয়ে বিশ্রাম করতে থাকি,  তুমি ওই পাঠক ব্রাহ্মণকে একটি গুপ্ত বিষয় জিঞ্জাসা কর--- ভাগবতে ' রাধা' নাম নেই  কেন? আরও বললেন পন্ডিত পাঠককে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করে জিঞ্জাসা করবে।


       স্বরূপ দামোদর মহাপ্রভুর নির্দেশ মত কার্য করলেন। প্রণিপাত করে গুপ্ত কথাটি জিঞ্জাসা করলেন। ব্রাহ্মণ পাঠকও প্রশ্নকর্তার উদ্দেশ্যে প্রণাম ক'রে বললেন, অতি উওম প্রশ্ন করেছেন, আপনার প্রশ্ন শুনে আমার হৃদয় কেঁপে উঠল।


           " শুনি হাসি বিপ্র জগন্নাথ কলেক প্রণাম।

              উওম প্রশ্ন করিল হিয়া কম্পাইল।।"


পাঠক বিপ্র তখন শ্রীরাধাতও্ব সম্বন্ধে বলতে লাগলেন; কথাগুলো অভিনব ও খুবই সুন্দর। 

মূলকথা এই--রাধা কৃৃষ্ণাত্মিকা, কৃৃষ্ণ রাধাত্মক; কৃৃষ্ণের প্রাণের প্রাণ রাধা, শ্রীরাধা ভাগবতের প্রাণ, প্রাণ শরীরের পরম সত্বা।শরীর দৃশ্য, প্রাণ অদৃশ্য বা বাহ্যতঃ উহ্য। তাই শ্রীভাগবতে রাস-রাসেশ্বরীর নাম- তও্ব উহ্য আছে। হরিই একমাত্র রস, গীতগোবিন্দ বলেছেন-- "হরিমেকরসম্ চিরমপি বিহিত বিলাসম্"। রসের আধার শ্রীরাধা অপ্রকট, অপ্রকাশ্য। প্রভু উওর শুনে হুঙ্কার করলেন ও

' হা কৃৃষ্ণ' বলেই মূর্চ্ছিত হলেন।


              দূরে প্রভু অদ্ভুতে হুঙ্কার করিলে।

               হা কৃৃষ্ণ!  বলিয়া প্রভু মূর্চ্ছিত হেলে।।


মূর্চ্ছা হতে উঠে প্রভু তাঁকে বললেন,-- কে তুমি ব্রাহ্মণ ; মহাভাবের স্বরূপ ব্যক্ত করে আমায় শীতল করে দিলে।

সে অবধি পাঠকের সঙ্গে প্রভুর প্রগাঢ় প্রীতি হ' ল।


এই পাঠকের নাম শ্রীজগন্নাথ দাস। তিনি আরেকদিন প্রভুকে বললেন, শ্রীক্ষেত্রধামে শ্রীরাধার পূজা নাই কেন তার কারণ বলছি। 

তিনি বললেন রাধা কৃৃষ্ণের হ্লাদিনী শক্তি,কৃৃষ্ণ থেকে আলাদা নহেন। রাধা অনাহত জ্যোতি,  প্রীতিভাব, কৃৃষ্ণ- প্রীতি, জ্যোতিরূপে চক্র হয়েছেন। জগন্নাথের পার্শ্বে স্বয়ং সুদর্শন চক্র রূপে বিরাজিত আছেন। উহাই রাসমন্ডলের রাধা। রাধাষ্টমীর দিন তাঁহার আরাধনা হয়। তিনি অশ্রু, কম্প, স্বেদ, ও রোমাঞ্চ প্রকাশ করেন। স্তম্ভ অবস্হায় চক্র যে রাধাতও্ব ইহা একটি অভিনব সংবাদ। 


 রসিক ভক্তের ধ্যানের বিষয়--


           " জগন্নাথ বিপ্র বলে শুন গোরা রায়।

              শ্রীক্ষেএে রাধার পূজা নাহিটি নিশ্চয়।।

              রাধা হৃদগত ভাব স্তম্ভর প্রমাণ।

              রাধা অনাহত জ্যোতি প্রীতিভাব জান।।

              রাধা আহ্লাদিনী শক্তি পৃথক নহে সেহি।

              কৃৃষ্ণ - প্রীতি জ্যোতিরূপে চক্রভাব রহি।।

              রাস মন্ডল চক্র স্বয়ং সুদর্শন।

              রাধাষ্টমীর দিন তার হয় আরাধন।।

              অশ্রু কম্প স্বেদ পরে রোমাঞ্চ শরীর।

               স্তম্ভাবস্হার স্বরূপ চক্র নিরন্তর।।"


জয় জয় শ্রীরাধে 🙏🏻 জয় জগদ্বন্ধু 🙏🏻 জয় শ্রীগুরুদেব।

              " সংকলিত"

    <----আদ্যনাথ রায় চৌধুরী--->

============================

No comments:

Post a Comment