27>|| জপ-ধ্যান, স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ ||
জপ-ধ্যান- সাধন-ভজন, নমে মনে,
সব কাজকর্ম করতে হবে এক সাথে
প্রথম দিকে কষ্ট করে একটু খাটতে হবে
ছাড়া যায়না একবার তাঁর আস্বাদ পেলে।
প্রথম বয়সে খেটেখুটে তাঁর আস্বাদ পেতে হয়।
একবার যে আস্বাদ পেয়েছে সে আর যায় কোথায় ?
তার ধড় থেকে মাথা নামিয়ে নিলেও সে আর তাঁকে ছাড়তে পারে না।
ঠিকঠিক সাধক কী রকম জানিস ? মশারির ভিতর শুয়েছে, সকলে মনে করছে ঘুমুচ্ছে, সে কিন্তু সারারাত ধ্যান জপে কাটিয়েছে।
সকালে যখন উঠল, সকলে জানল সে ঘুম থেকে উঠল।
সাধন-ভজন ঢাক পিটে করবার জিনিস নয়–তাতে অনিষ্ট হয়। নানা লোকে নানা কথা বলে ঠাট্টা করে। আবার এটা ঠিক নয়, ওটা ঠিক নয়, এসব বলে নানা ভাবে উপদেশ দিয়ে মনকে চঞ্চল করে তোলে, সাধনার বিঘ্ন করে।
অনেক সময় আমার মনে হয়, যারা ঘুমের জন্য বড় কাতর হয় তারা যদি প্রথম প্রথম দিনে ঘুমিয়ে নিয়ে রাতে জাগে, সেও ভাল। সাধন-ভজনের সুন্দর সময় সন্ধিক্ষণ ও নিশীথ রাত। মানুষ সাধারণত সেই সময়টা বাজে নষ্ট করে।
দিনের বেলায় নানারকম গোলমাল থাকে, মনকে একটু স্থির করতে গেলে নানারকম গোলমাল এসে চঞ্চল করে দেয়। রাতে প্রকৃতি বেশ শান্ত। জীবজন্তুরা সব অসাড়ে ঘুমায়–সাধনার পক্ষে এই উপযুক্ত সময়। গভীর রাতে ধ্যান জপ অল্পেতেই জমে ওঠে।
ঠাকুর বলতেন– 'দিনে বারুদ-ঠাসা খা, রাতে কম খাবি'। দিনের বেলা পেট ভর্তি খাও, হজম হবে। রাতে কম করে খেলে শরীরটা বেশ হালকা থাকবে।
ধ্যান-ভজনের বেশ সুবিধা হবে। রাতে ভরপেট খেলে আলস্য বাড়বে, কেবল ঘুমোবার ইচ্ছা হবে। রাতে ঘুমিয়ে কাটাবি, না ভজন করবি?
দেখ বাবা, তোদের মুখে ওসব কথা শোভা পায় না। তোরা সাধু-ব্রহ্মচারী লোক, তোদের ভিতর ব্রহ্মচর্যের একটা শক্তি রয়েছে। তোদের ধ্যান-ভজন, কাজকর্ম সব এক সাথে করতে হবে। 'এটা করে ওটা পারিনে― ও তো গৃহস্থের কথা'।
আমার ধারণা তোদের ভজনে স্পৃহা নেই―কেবল কাজকর্ম, হইচই ও আড্ডা দিয়ে সময় কাটাস, আর মুখে বলিস, ধ্যান-ভজনের সময় পাই না। প্রথম প্রথম না হয় কিছু খাটাখাটুনি হয়, বরাবর তো সে রকম থাকে না ? তখন সাধন-ভজন করিসনে কেন ? তোদের ওসব কথা বলতে লজ্জা হয় না ?
স্বামী ব্রহ্মানন্দ মহারাজ ।।
===========================
No comments:
Post a Comment