Friday, July 4, 2025

29>শ্রীরামকৃষ্ণদেব কেন খাবারের প্রতি এত আসক্ত ছিলেন?

 29>শ্রীরামকৃষ্ণদেব কেন খাবারের প্রতি এত আসক্ত ছিলেন?


কামিনী -কাঞ্চন ত‍্যাগী ব্রহ্ম সাধনায় সিদ্ধ একজন সাধক হয়েও অবতার পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণদেব কেন এত খেতে ভালোবাসতেন? কেন ঠাকুর খাবারের প্রতি নিজের আসক্তি ত‍্যাগ করেন নি? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ খাদ‍্যদ্রব‍্যের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট ছিলেন।পছন্দের খাবার রান্নার সুবাস পেলে কিংবা তাঁকে পছন্দের খাবার দেওয়া হলে তিনি একেবারে বালকের  মতো আহ্লাদ প্রকাশ করতেন।কোনো লোকসমাজের পরোয়া করতেন না। খাবারের প্রতি ঠাকুরের এই অত‍্যাধিক আগ্রহের কারণে মা সারদা অনেক সময় বিব্রত বোধ করতেন। এমনকি দক্ষিণেশ্বরে ভক্তদের উপদেশ দিতে দিতেও তিনি মাঝে মধ‍্যে মায়ের ঘরে কী রান্না হচ্ছে তাই দেখতে চলে যেতেন।ঘনিষ্ঠ ভক্তরা এ নিয়ে  প্রশ্ন করলে ঠাকুর এক মায়াময় হাসি হেসে ভক্তদের দিকে চেয়ে নীরব থাকতেন কিংবা অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতেন।একদিন মা সারদা এরকম একটি ঘটনায় লজ্জিত হয়ে ঠাকুরকে প্রশ্ন করেছিলেন,” ঠাকুর আপনি খাবারের ব‍্যাপারে এমনটি কেন করেন? আমি এতে লজ্জিত হই মাঝে মাঝে,বিশেষ করে ভক্ত সন্তানদের সম্মুখে।মায়ের এই কথা শুনে ঠাকুর বলেছিলেন, “আমার প্রারদ্ধ কর্ম শেষ হয়ে গেছে। তাই খাবারকে আঁকড়ে ধরে আছি।যেদিন ছেড়ে দেব সেদিন চলে যাবো।” এই কথা শুনে শ্রীমা ভাবলেন ঠাকুর নিশ্চয়ই তাঁকে আসল কারণটা বলছেন না। মায়ের মনের ভাব আন্দাজ করে ঠাকুর বললেন, “ দেখো , তুমি এখন আমার কথা বিশ্বাস করতে পারছো না কিন্তু একদিন করবে।যেদিন তুমি আমার জন্য খাবার আনবে, আর আমি খাবারের দিকে না তাকিয়ে অন‍্যদিকে তাকিয়ে থাকবো সেদিন জানবে আমার আর তিনদিন বাকি।মা সারদার মনে সংশয় রয়েই গেলো। এই ঘটনার পর সাত বছর কেটে যায় । একদিন কাশীপুরে শ্রীমা ঠাকুরের জন্য খাবার নিয়ে গেলেন । ঠাকুর দরজার দিকে তাকিয়ে শুয়ে ছিলেন।শ্রীমা খাবারের থালা হাতে ঘরে ঢোকা মাত্রই ঠাকুর অন‍্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।তিনি আর খাবেন না। শ্রীমা বিস্মিত হলে ঠাকুর বললেন, “অনেকদিন আগে আমি তোমায় কিছু কথা বলেছিলাম মনে করো ।তখন শ্রীমার মনে পড়ল সাত বছর আগের ঠাকুরের সেই বক্তব্য।শ্রীমা কেঁপে উঠলেন। এর ঠিক তিনদিন পর ঠাকুর চিরকালের মতো পার্থিব দেহ ত‍্যাগ করে চলে গেলেন।আসলে পরমব্রহ্ম ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ প্রতিদিন নিজের মনের মধ‍্যে খাবারের প্রতি এই আগ্রহ তৈরী করতেন।কারণ ঠাকুর জানতেন নিজের মনের মধ‍্যে এই ইচ্ছে তৈরী না করলে তাঁর আত্মা দেহে থাকবে না, মুক্ত হয়ে যাবে।তাই আত্মাকে দেহের মধ‍্যে ধরে রাখতে অবতার পুরুষ ঠাকুর ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কাণ্ড ঘটাতেন।  

=======================

No comments:

Post a Comment