30>স্বামীজির দেহাবসানের তারিখ ৪ ঠা জুলাই ১৯০২
স্বামীজির দেহাবসানের তারিখ ৪ ঠা জুলাই ১৯০২ একশো চর্তুদশ বছর অতিক্রান্ত। তবুও তিনি আজও বিস্ময়কর ভাবে বেঁচে আছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, যেখানে আজও মৃত্যুকে তেমন কোনও স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বরং বলা হয়, বিদায় দিন থেকেই তো মহামানবদের নতুন করে জন্ম নেওয়া। কৃষ্ণ, বুদ্ধ, শ্রীচৈতন্য, শ্রীরামকৃষ্ণ তো এই ভাবেই বেঁচে আছেন। কিন্তু আমাদের স্বামীজি যে মাত্র ঊনচল্লিশ বছরের জীবনকে সম্বল করেই যে অমর হয়ে থাকবেন, সেটাও কম আশ্চর্যের কথা নয়। বেলুড়ে জুলাইয়ের রাত নটা বেজে দশ মিনিটে যে সন্ন্যাসী বিনা নোটিশে বিশ্বসংসার থেকে বিদায় নিয়েছিলেন তাঁর দাপট আজকের বহুবন্দিত বিবেকানন্দের মতন ছিল না। বেলুড় মঠে বিদ্যুৎ না থাকলেও টেলিফোন অবশ্যই ছিল, কিন্তু প্রয়াত বিবেকানন্দ পরের দিন সংবাদ পত্রের শিরোনাম হননি, বিশ্বপ্রধানরাও তাঁর জন্য শোকবার্তা প্রেরণ করেন নি। সব ব্যাপারটাই ছিল নিতান্ত সাধারণ, তাই কালের সংগ্রহে বীর সন্ন্যাসীর ডেথ সার্টিফিকেট নেই, বিদায়কালের কোনও আলোকচিত্র নেই, শেষকৃত্যের স্থান সম্বন্ধে প্রয়োজনীয় অনুমতি দিতেও যথেষ্ট দ্বিধা ও বিলম্ব।
সংসারের সমস্ত মায়াবন্ধন ছিন্ন করেও তাঁর সমকালকে স্বামীজি বলতে পেরেছিলেন - ত্যাগভোগ সবই বুদ্ধির বিভ্রম ; ' প্রেম' ' প্রেম' -একমাত্র ধন। এই বিবেকানন্দই তাঁর জন্মের সার্ধশতবর্ষ পরেও আশ্চর্য ভাবে বেঁচে আছেন এ দেশের সংখ্যাহীন মানুষের মনে।
স্বামীজী শুধু ভারতের ছিলেন না তিনি ছিলেন সমগ্র জগতের। নিপীড়িত মানবাত্মার জন্যই তাঁর আবির্ভাব। জীবনের যত সমস্যা মানুষকে বিব্রত করে, সব সমস্যার উপরই তিনি আলোকপাত করেছেন। মানুষকে তিনি দেবতারূপে জ্ঞান করেছেন।
স্বামীজী সম্পর্কে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ---- "অল্পদিন পূর্বে বাংলাদেশে যে-মহাত্মার মৃত্যু হইয়াছে, সেই বিবেকানন্দও পূর্ব ও পশ্চিমকে দক্ষিণে ও বামে রাখিয়া মাঝখানে দাঁড়াইতে পারিয়াছিলেন। ভারতনর্ষের ইতিহাসের মধ্যে পাশ্চত্যকে অস্বীকার করিয়া ভারতবর্ষকে সংকীর্ণ সংস্কারের মধ্যে চিরকালের জন্য সঙ্কুচিত করা তাঁহার জীবনের উপদেশ নহে। গ্রহণ করিবার, মিলন করিবার, সৃজন করিবার প্রতিভাই তাঁহার ছিল। তিনি ভারতবর্ষের সাধনাকে পশ্চিমে ও পশ্চিমের সাধনাকে ভারতবর্ষে দিবার ও লইবার পথ রচনার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করিয়াছিলেন। যদি তুমি ভারতকে জানতে চাও, বিবেকানন্দকে জানো। তাঁর মধ্যে সবকিছুই ইতিবাচক, নেতিবাচক কিছু নেই।"
আজকের দিনে মানবকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ মহান কর্মযোগী, মানবাত্মার পূজারী এই মহামানব চরণে জানাই শতকোটি প্রণাম ---
"প্রতিদিন আমি, হে জীবনস্বামী, দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে।
করি জোড়কর, হে ভুবনেশ্বর, দাঁড়াব তোমারি সম্মুখে।। "
=========================
No comments:
Post a Comment