3>|| শ্রীশ্রীমা সারদা ||
শ্রীশ্রীমা ছিলেন সতেরও মা, অসতেরও মা। তাই তিনি বলতে পেরেছেনঃ আমার কাছে শরৎও যা , আমজাদও তাই। অর্থাৎ মায়ের কাছে সন্তান সবাই সমান।
শিশুরা কেউই খারাপ নয়। এক একজন এক এক ধরনের গুণ নিয়ে জন্মায়। আজকের আধুনিক সমাজের মা-বাবাকে বুঝতে হবে , কার মেধা বা প্রতিভা কোন দিকে , তাকে সেদিক থেকে তৈরী করতে হবে। নইলে এইসব দামী ছোট্ট হৃদয়গুলো হবে আধুনিক যুগযন্ত্রনার আর এক শিকার।
আজকের আধুনিক যুগের ছেলেমেয়ে বিপথগামী হবার প্রধান কারণ তারা বঞ্চিত হচ্ছে মায়ের স্নেহ থেকে। উচ্চবিত্ত সমাজ , উচ্চ মধ্যবিত্ত সমাজের ছেলেমেয়েরা মানুষ হচ্ছে আয়ার কাছে। মাতৃস্নেহহীন জীবনে তাদের বুকজোড়া হাহাকার। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নিষ্ঠুর ও দয়াহীন। বিদ্রোহী তারা। হিংস্র তারা, দায়িত্বহীন। ছোটবেলায় মাকে না পাওয়ার বেদনাই পরবর্তী জীবনে অশান্তির যন্ত্রণা ডেকে আনে। তাই মাকে পুরোমাত্রায় সাহচর্য দিতে হবে সন্তানকে।
সন্তান যদি বিপথগামী হয় , প্রয়োজনে মাকে শাসনও করতে হয়। শ্রীশ্রীমায়ের জীবনের দিকে তাকালে দেখতে পাই, মায়ের সেই কঠিন-কোমল মাধুর্যে ভরা রূপের সমন্বয়। আজকের আধুনিক যুগের মায়েদের শ্রীশ্রীমায়ের যথার্থ মাতৃরূপই আদর্শ হিসাবে গ্ৰহণ করা দরকার।
=====+=====================
‘ছেলেরা সব “কত রকম” কী লিখেছে, দেখো না। কেউ কেউ বলছে, “এত করে প্রার্থনা, জপধ্যান করছি, কিছুই হচ্ছে না।” কেউ বা সংসারে নানা অশান্তি, অনটন, রোগ-শোকের কথা লিখেছে। আর এসব শুনতে পারিনি। ঠাকুরকে বলি: “ঠাকুর এদের ইহকাল-পরকাল সব তুমি দেখো।” আমি মা হয়ে আর কী বলব? কজন তাঁকে ঠিক ঠিক চায়? সে ব্যাকুলতা কোথায়? এত তো ভক্তি, আগ্রহ-কিন্তু সামান্য একটু ভোগ্যবস্তু পেলেই সন্ত্তষ্ট! বলে: “আহা, তাঁর কী দয়া!” আবার বলে: “রাধু কেমন আছে?” আমার মন ভেজাবার জন্যে রাধুর খোঁজ আগে। আমি চোখ বুজলে রাধুর দিকে কেউ ফিরেও চাইবে না। আসল কথা কী জানো? প্রাণ থেকে ব্যাকুল হয়ে যে-প্রার্থনা করে, সে-তাই পায়। অনুরাগ, ব্যাকুলতা আসল।’ নবাসনের বৌদি বললেন, মা-র তো সব ছেলে সমান; তবে যে বিয়ে করার মতামত চেয়েছে তাকে তিনি ‘বে’ করতে অনুমতি দেন আর যে সংসার ত্যাগ করতে চাইছে তার কাছে ত্যাগের প্রশংসা করেন। মা-র তো উচিত যেটা ভাল, সেই পথেই সকলকে নিয়ে যাওয়া। তখন মা বললেন:
‘দেখো মা, যার ভোগবসনা প্রবল, আমি নিষেধ করলেই কি শুনবে? আর যে বহু সুকৃতি বলে এসব মায়ার খেলা বুঝতে পেরে তাঁকেই একমাত্র সার ভেবেছে, তাকে একটু সাহায্য করবনি? সংসারে দুঃখের কি অন্ত আছে, মা।’
- শ্রী শ্রী মা
-------------------
'গুণহীনসুতান অপরাধ অযুতান কৃপয়াদ্যসমুদ্ধর মোহগতান।
তরনীং ভব সাগর পারকরীং প্রণমামি পরাং জননীং জগতাম।।'
----------------------------------------------------------------
=============================================
"জগৎ জননী মা'
তার এমন ঘটনা---------
#ঘটন_না_অঘটন #
এক সাধুর মুখে শুনেছি, একটি সবজিওলা বর্দ্ধমান স্টেশনে বসে ছিল, লোকাল ট্রেনে মাল নিয়ে কলকাতায় আসবে বলে |মাল বলতে বিশেষ কিছু ছিল না সেদিন, কিছু শাক ছিল মাত্র | তারমধ্যে কচি চড়ুই শাক বা চাঁপানোটেই প্রধান | পাশে বসেছিলেন এক বৃদ্ধামত মহিলা | তিনি বারবারই সেই শাকগুলিতে হাত বুলিয়ে দেখতে লাগলেন, যেন স্পর্শেই ওদের স্বাদ অনুভব করছেন | আবার মুখে বলতে লাগলেন, "বাঃবাঃ, অনেকদিন এমন টাটকা শাক দেখিনি বাবা, তা যা বলব !"
বুড়ির রকমসকম দেখে মায়া হল শাকওলার | বললে, তা নাও না বুড়ি মা, দু তিন আঁটি যা ইচ্ছা! স্বচ্ছন্দে নাও, পয়সা লাগবে না |
মহিলা মাথা নেড়ে বললেন, "না বাবা, এখন নিতে পারবো না |এখন ঘরকে যাচ্ছি না | তারপর একটু থেমে বললেন," তুমি কোথায় যাবে বললে? শ্যামবাজারে যাও শাক বেচতে? তা বাবা যদি তোমার দয়া হয়, একদিন বরং আমার ঘরে দু আঁটি শাক ফেলে দিয়ে এস | যেদিন বাঁচবে টাঁচবে |
আমি ঠিকানা পাব কোথায় ?
কিছু না শ্যামবাজারের বাজার থেকে বেরিয়ে একটু উত্তরে বাগবাজার, সেই মুখে যেয়ে জিজ্ঞাসা কর, মার বাড়িটা কোথায়, কেউ না কেউ দেখিয়ে দেবেই |
তা গেছিল সে লোকটি | বাজারে যাবার আগেই গেছিল | আলাদা করে চাঁপানোটে একটা ছেঁড়া কাপড়ে বেঁধে নিয়ে |বাড়ি খুঁজে বের করতেও কোন অসুবিধা হয়নি | কিন্তু মুশকিল হল -লোকটি যখন বলল, এই ঠিকানার একটা বুড়িমত মেয়েছেলে থাকে, আমাকে বলেছেন একটু লটে শাক দিয়ে যেতে -তাই আমি এনেছি |
সেটা আসলে মঠ, সাধুরা থাকেন | তাঁরা তো অবাক | না বাপু, এখানে কেউ মেয়েছেলেটেলে থাকে না | দেখতে পাচ্ছ তো সাধুদের আস্তানা -এখানে মেয়েছেলে থাকবেই বা কেন? নিশ্চয় তোমার ভুল হয়েছে |
তবু লোকটি বারবার বলতে লাগল না, সে বুড়িমা আমাকে অনেককরে বলেছেন যে -
বলতে বলতেই নজরে পড়ল, সিঁড়ির বাঁকে বিশ্বজননী সারদামনির নানা বয়সের ছবি -এক ফ্রেমে বাঁধানো সে বলে উঠল, বা রে! এই তো | এই বুড়িমাই তো আমাকে লটে শাকের কথা বলেছেন -আপনারা বলছেন তিনি এখানে থাকেন না |
সাধুরা তো অবাক! মাগো, তোমার দুটো শাক খাবার ইচ্ছা হয়েছিল তো আমাদের বলনি কেন!
" সংগ্রহ"
==========================
No comments:
Post a Comment