7>Swami Vivekananda,
|| প্রেম--:-স্বামী বিবেকানন্দ ||
4th July the death anniversary of Swami Vivekananda.
Vivekananda, born in Kolkata on January 12, 1863 was known as Narendra Nath Datta in his pre-monastic life.
In 1887, Vivekananda and other disciples of Ramakrishna Paramhansa took formal vows of sannyasa and renounced worldly pleasures.
Vivekananda was often assailed by doubts about the existence of God. It was during this time, that he met Sri Ramakrishna, who later became his guru.
He attended the World’s Parliament of Religions in Chicago in 1893. His iconic speech there that touched topics like universal acceptance, tolerance and religion, got him a standing ovation.
Here are some inspirational quotes of Vivekananda::--
1> Neither seek nor avoid, take what comes.
2> Ask nothing; want nothing in return. Give what you have to give;
it will come back to you, but do not think of that now.
3> Condemn none: ( কারও নিন্দা করো না) if you can stretch out a helping hand, do so. If you cannot, fold your hands, bless your brothers, and let them go their own way.
4>All differences in this world are of degree, and not of kind, because oneness is the secret of everything.
(একত্ব হ'ল সমস্ত কিছুর গোপনীয়তা)
5>The fire that warms us can also consume us; it is not the fault of the fire.
6>You have to grow from the inside out. None can teach you, none can make you spiritual. There is no other teacher but your own soul.
7>Never think there is anything impossible for the soul. It is the greatest heresy to think so. If there is sin, this is the only sin, to say that you are weak, or others are weak.
=====<--©-আদ্যনাথ-->=====
|| 4th JULY ||
II আজ সেই চৌঠা জুলাই - এইদিনে স্বামী বিবেকানন্দ চলে গিয়েছেন মহাপ্রয়াণের পথে, আমাদের ছেড়ে ||
●● ৪ঠা জুলাই, ১৯০২
"ভোরবেলা ঘুম ভাঙল বিবেকানন্দের । তাকালেন ক্যালেন্ডারের দিকে । আজই তো সেই দিন । আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস। আর আমার দেহত্যাগের দিন। মা ভুবনেশ্বরী দেবীর মুখটি মনে পড়ল তাঁর। ধ্যান করলেন সেই দয়াময় প্রসন্ন মুখটি। বুকের মধ্যে অনুভব করলেন নিবিড় বেদনা ।
তারপর সেই বিচ্ছেদবেদনার সব ছায়া সরে গেল ।
ভারী উৎফুল্ল বোধ করলেন বিবেকানন্দ। মনে নতুন আনন্দ, শরীরে নতুন শক্তি । তিনি অনুভব করলেন, তাঁর সব অসুখ সেরে গিয়েছে । শরীর ঝরঝর করছে । শরীরে আর কোনো কষ্ট নেই।
মন্দিরে গেলেন স্বামীজি । ধ্যানমগ্ন উপাসনায় কাটালেন অনেকক্ষন । আজ সকাল থেকেই তাঁর মনের মধ্যে গুন গুন করছে গান । অসুস্থতার লক্ষন নেই বলেই ফিরে এসেছে গান, সুর, আনন্দ । তাঁর মনে আর কোনও অশান্তি নেই । শান্ত , স্নিগ্ধ হয়ে আছে তাঁর অন্তর।
উপাসনার পরে গুরুভাইদের সঙ্গে হাসিঠাট্টা করতে করতে সামান্য ফল আর গরম দুধ খেলেন ।
বেলা বাড়ল। সাড়ে আটটা নাগাদ প্রেমানন্দকে ডাকলেন তিনি। বললেন, আমার পুজোর আসন কর ঠাকুরের পূজাগৃহে । সকাল সাড়ে নটায় স্বামী প্রেমানন্দও সেখানে এলেন পূজা করতে ।
বিবেকানন্দ একা হতে চান ।
প্রেমানন্দকে বললেন‚ আমার ধ্যানের আসনটা ঠাকুরের শয়নঘরে পেতে দে ।
এখন আমি সেখানে বসেই ধ্যান করব ।
অন্যদিন বিবেকানন্দ পুজোর ঘরে বসেই ধ্যান করেন ।
আজ ঠাকুরের শয়নঘরে প্রেমানন্দ পেতে দিলেন তাঁর ধ্যানের আসন ।চারদিকের দরজা জানালা সব বন্ধ করে দিতে বললেন স্বামীজি ।
বেলা এগারোটা পর্যন্ত ধ্যানে মগ্ন রইলেন স্বামীজি । ধ্যান ভাঙলে ঠাকুরের বিছানা ছেড়ে গান গাইতে গাইতে বেরিয়ে এলেন তিনি --
মা কি আমার কালো,
কালোরূপা এলোকেশী
হৃদিপদ্ম করে আলো ।
তরুন সন্ন্যাসীর রূপের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে গুরুভাইরা ।
বেলা সাড়ে এগারোটার মধ্যেই দুপুরের খাওয়া সারতে বললেন বিবেকানন্দ । আজ নিজে একলা খাচ্ছেন না । খেতে বসলেন সবার সঙ্গে ।
সকালবেলা বেলুড়ঘাটে জেলেদের নৌকো ভিড়েছিল । নৌকোভর্তি গঙ্গার ইলিশ । স্বামীজির কানে খবর আসতেই তিনি মহাউত্সাহে ইলিশ কিনিয়েছেন । তাঁরই আদেশে রান্না হয়েছে ইলিশের অনেকরকম পদ ।
গুরুভাইদের সঙ্গে মহানন্দে ইলিশভক্ষনে বসলেন বিবেকানন্দ । তিনি জানেন, আর মাত্র কয়েকঘন্টার পথ তাঁকে পেরোতে হবে । ডাক্তারের উপদেশ মেনে চলার আর প্রয়োজন নেই । জীবনের শেষ দিনটা তো আনন্দেই কাটানো উচিত।
'একাদশী করে খিদেটা খুব বেড়েছে। ঘটিবাটিগুলোও খেয়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে ।' বললেন স্বামীজি ।
পেট ভরে খেলেন ইলিশের ঝোল, ইলিশের অম্বল. ইলিশ ভাজা ।
দুপুরে মিনিট পনেরো বিছানায় গড়িয়ে নিয়ে প্রেমানন্দকে বললেন, সন্ন্যাসীর দিবানিদ্রা পাপ। চল, একটু লেখাপড়া করা যাক ।
বিবেকানন্দ শুদ্ধানন্দকে বললেন‚ লাইব্রেরি থেকে শুক্লযজুর্বেদটি নিয়ে আয় ।
তারপর হঠাৎ বললেন‚ এই বেদের মহীধরকৃতভাষ্য আমার মনে লাগে না |
আমাদের দেহের অভ্যন্তরে মেরুদণ্ডের মধ্যস্থ শিরাগুচ্ছে‚ ইড়া ও পিঙ্গলার মধ্যবর্তী যে সুষুন্মা নাড়িটি রয়েছে‚ তার বর্ণনা ও ব্যাখ্যা আছে তন্ত্রশাস্ত্রে । আর এই ব্যাখ্যা ও বর্ণনার প্রাথমিক বীজটি নিহিত আছে বৈদিক মন্ত্রের গভীর সংকেতে । মহীধর সেটি ধরতে পারেননি ।
বিবেকানন্দ এইটুকু বলেই থামলেন ।
এরপর দুপুর একটা থেকে চারটে পর্যন্ত তিনঘন্টা স্বামীজী লাইব্রেরী ঘরে ব্যাকরণ চর্চা করলেন ব্রহ্মচারীদের সঙ্গে ।
তিনি পাণিনির ব্যাকরণের সূত্রগুলি নানারকম মজার গল্পের সঙ্গে জুড়ে দিতে লাগলেন ।
ব্যাকরণশাস্ত্রের ক্লাস হাসির হুল্লোড়ে পরিণত হল ।
ব্যাকরনের ক্লাস শেষ হতেই এক কাপ গরম দুধ খেয়ে প্রেমানন্দকে সঙ্গে নিয়ে বেলুড় বাজার পর্যন্ত প্রায় দু মাইল পথ হাঁটলেন ।
এতটা হাঁটা তাঁর শরীর ইদানিং নিতে পারছে না ।
কিন্তু ১৯০২ এর ৪ ঠা জুলাইয়ের গল্প অন্যরকম । কোনও কষ্টই আজ আর অনুভব করলেন না।
বুকে এতটুকু হাঁফ ধরল না । আজ তিনি অক্লেশে হাঁটলেন ।
বিকেল পাঁচটা নাগাদ মঠে ফিরলেন বিবেকানন্দ । সেখানে আমগাছের তলায় একটা বেঞ্চি পাতা । গঙ্গার ধারে মনোরম আড্ডার জায়গা । স্বামীজির শরীর ভাল থাকে না বলে এখানে বসেন না । আজ শরীর -মন একেবারে সুস্থ । তামাক খেতে খেতে আড্ডায় বসলেন বিবেকানন্দ ।
আড্ডা দিতে দিতে ঘন্টা দেড়েক কেটে গেল ।
সন্ধ্যে সাড়ে ছ'টা হবে । সন্ন্যাসীরা কজন মিলে চা খাচ্ছেন । স্বামীজি এক কাপ চা চাইলেন ।
সন্ধ্যে ঠিক সাতটা। শুরু হলো সন্ধ্যারতি । স্বামীজি জানেন আর দেরি করা চলবে না । শরীরটাকে জীর্ন বস্ত্রের মতো ত্যাগ করার পরমলগ্ন এগিয়ে আসছে ।
তিনি বাঙাল ব্রজেন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলেন । ব্রজেন্দ্রকে বললেন , 'আমাকে দুছড়া মালা দিয়ে তুই বাইরে বসে জপ কর ।
আমি না ডাকলে আসবি না ।'
স্বামীজি হয়তো বুঝতে পারছেন যে এটাই তাঁর শেষ ধ্যান ।
তখন ঠিক সন্ধ্যে সাতটা পঁয়তাল্লিশ । স্বামীজি যা চেয়েছিলেন তা ঘটিয়ে দিয়েছেন ।
ব্রজেন্দ্রকে ডাকলেন তিনি । বললেন , জানলা খুলে দে । গরম লাগছে ।
মেঝেতে বিছানা পাতা । সেখানে শুয়ে পড়লেন স্বামীজি । হাতে তাঁর জপের মালা ।
ব্রজেন্দ্র বাতাস করছেন স্বামীজিকে । স্বামীজি ঘামছেন । বললেন , আর বাতাস করিসনে । একটু পা টিপে দে ।
রাত ন'টা নাগাদ স্বামীজি বাঁপাশে ফিরলেন । তাঁর ডান হাতটা থরথর করে কেঁপে উঠল । কুন্ডলিনীর শেষ ছোবল । বুঝতে পারলেন বিবেকানন্দ । শিশুর মতো কাঁদতে লাগলেন তিনি ।
দীর্ঘশ্বাস ফেললেন । গভীর সেই শ্বাস । মাথাটা নড়ে উঠেই বালিশ থেকে পড়ে গেল ।
ঠোঁট আর নাকের কোনে রক্তের ফোঁটা । দিব্যজ্যোতিতে উজ্জ্বল তাঁর মুখ । ঠোঁটা হাসি ।
ঠাকুর তাঁকে বলেছিলেন , 'তুই যেদিন নিজেকে চিনতে পারবি সেদিন তোর এই দেহ আর থাকবে না ।'
স্বামীজি বলেছিলেন , 'তাঁর চল্লিশ পেরোবে না ।'
বয়েস ঠিক উনচল্লিশ বছর পাঁচ মাস, চব্বিশ দিন ।7গ4
পরের দিন ভোরবেলা ।
একটি সুন্দর গালিচার ওপর শায়িত দিব্যভাবদীপ্ত‚ বিভূতি-বিভূষিত‚ বিবেকানন্দ ।
তাঁর মাথায় ফুলের মুকুট ।
তাঁর পরনে নবরঞ্জিত গৈরিক বসন ।
তাঁর প্রসারিত ডান হাতের আঙুলে জড়িয়ে আছে রুদ্রাক্ষের জপমালাটি ।
তাঁর চোখদুটি যেন ধ্যানমগ্ন শিবের চোখ‚ অর্ধনিমীলিত‚ অন্তর্মুখী‚ অক্ষিতারা ।
নিবেদিতা ভোরবেলাতেই চলে এসেছেন ।
স্বামীজির পাশে বসে হাতপাখা দিয়ে অনবরত বাতাস করছেন ।
তাঁর দুটি গাল বেয়ে নামছে নীরব অজস্র অশ্রুধারা ।
স্বামীজির মাথা পশ্চিমদিকে ।
পা-দুখানি পুবে‚ গঙ্গার দিকে ।
শায়িত বিবেকানন্দের পাশেই নিবেদিতাকে দেখে বোঝা যাচ্ছে সেই গুরুগতপ্রাণা‚ ত্যাগতিতিক্ষানুরাগিণী বিদেশিনী তপস্বিনীর হৃদয় যেন গলে পড়ছে সহস্রধারে । আজকের ভোরবেলাটি তাঁর কাছে বহন করে এনেছে বিশুদ্ধ বেদনা ।
অসীম ব্যথার পবিত্র পাবকে জ্বলছেন‚ পুড়ছেন তিনি ।
এই বেদনার সমুদ্রে তিনি একা ।
নির্জনবাসিনী নিবেদিতা ।
বিবেকানন্দের দেহ স্থাপন করা হল চন্দন কাঠের চিতায় ।
আর তখুনি সেখানে এসে পৌঁছলেন জননী ভুবনেশ্বরী ।
চিৎকার করে কাঁদতে- কাঁদতে লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে ।
কী হল আমার নরেনের ?
হঠাৎ চলে গেল কেন ?
ফিরে আয় নরেন‚ ফিরে আয় ।
আমাকে ছেড়ে যাসনি বাবা ।
আমি কী নিয়ে থাকব নরেন ?
ফিরে আয় । ফিরে আয় ।
সন্ন্যাসীরা তাঁকে কী যেন বোঝালেন ।
তারপর তাঁকে তুলে দিলেন নৌকায় ।
জ্বলে উঠল বিবেকানন্দের চিতা ।
মাঝগঙ্গা থেকে তখনো ভেসে আসছে ভুবনেশ্বরীর বুকফাটা কান্না ।
ফিরে আয় নরেন ফিরে আয় ।
ভুবনেশ্বরীর নৌকো ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল ।
তাঁর কান্না‚ ফিরে আয় নরেন‚ ফিরে আয়‚ ভেসে থাকল গঙ্গার বুকে ।
নিবেদিতা মনে মনে ভাবলেন‚ প্রভুর ওই জ্বলন্ত বস্ত্রখণ্ডের এক টুকরো যদি পেতাম !
সন্ধে ছটা ।
দাহকার্য সম্পন্ন হল । আর নিবেদিতা অনুভব করলেন‚ কে যেন তাঁর জামার হাতায় টান দিল । তিনি চোখ নামিয়ে দেখলেন‚ অগ্নি ও অঙ্গার থেকে অনেক দূরে‚ ঠিক যেখানে দাঁড়িয়ে তিনি‚ সেখানেই উড়ে এসে পড়ল ততটুকু জ্বলন্ত বস্ত্রখণ্ড যতটুকু তিনি প্রার্থনা করেছিলেন ।
নিবেদিতার মনে হল‚ মহাসমাধির ওপার থেকে উড়ে-আসা এই বহ্নিমান পবিত্র বস্ত্রখণ্ড তাঁর প্রভুর‚ তাঁর প্রাণসখার শেষ চিঠি ।"
"নিজের মৃত্যুর দিনক্ষণ অনেক আগেই জানতেন স্বামীজি সেই কারণেই
তাঁর অন্যতম প্রিয় ভক্ত ভগিনী নিবেদিতাকে বলে পাড়ি গিয়েছিলেন মহাপ্রয়াণের পথে। নিবেদিতা সেই মুহূর্তে কিছুই বুঝতে পারেন নি। বুঝেছিলেন স্বামীজির মৃত্যু সংবাদ আসার পর।
ঘটনা ১৯০২ সালের ২ জুলাই। স্বামীজির মৃত্যুর দুই দিন আগের ঘটনা। নিবেদিতাকে নেমন্তন্ন করলেন বিবেকানন্দ। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে বেলুর মঠে এলেন নিবেদিতা। সেদিন আবার স্বামীজির একাদশী। উপোস তাঁর। নিজে খাবেন না কিন্তু ভগিনীকে নিমন্ত্রণ করেছেন। বেজায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন নিবেদিতা। স্বামীজির নিমন্ত্রণ হ্যাঁ না কিছুই বলতে পারেন না।
এরপরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। নিবেদিতাকে খাওয়ালেন ভাত,আলুসিদ্ধ,দুধ,কাঁঠাল। খাওয়ায় মন নেই নিবেদিতার। তিনি বুঝতেই পারছেন না কি করতে চাইছেন স্বামীজি। প্রথমে খানিক না না করেও শেষে খাওয়া শুরু করলেন। খাওয়ার সময় নানারকম কথা বলতে শুরু করলেন স্বামীজি। খাওয়া শেষ হল। এবার নিবেদিতার হাত পা জল দিয়ে ধুয়ে দিলেন। নিবেদিতা এবারেও অস্বস্তিতে। একেবারেই বুঝতে পারছেন না বিবেকানন্দ কি করছেন আর কেনই বা এমন করছেন।
স্বামীজি হাত যখন নিবেদিতার পা যত্ন সহকারে ধুয়ে দিচ্ছে আর থাকতে পারেননি নিবেদিতা। প্রতিবাদ করে বলেন, “এ কী করলেন আপনি, এ তো আমার করা উচিত আপনাকে।” বিবেকানন্দের উত্তর , “তুমি তো যীশুর কথা পড়েছ। তাহলে নিশ্চয় জানো তিনিও শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়েছিলেন।” নিবেদিতা বলে ছিলেন, “সে তো তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে।” বিবেকানন্দের সহস্য উত্তর, “you silly girl”। ভগিনী নিবেদিতা গুরুর কথা পুরো বুঝে উঠতে পারেননি।
৫ জুলাই ১৯০২ সকালবেলা বেলুরমঠেরই এক সাধক এসে একটি চিঠি দেন নিবেদিতাকে। চিঠি পাঠিয়েছেন স্বামী সারদানন্দ। বার্তা? স্বামীজির মহাপ্রয়াণের। ৪ তারিখ রাত ৯.১০ ধরাধাম ছেড়ে চলে গিয়েছে স্বামীজির দেহ।
শিষ্যা অবাক,তিনি উত্তর খুঁজছিলেন, ৪ তারিখ ৯.১০মিনিটে কেন তিনি স্বপ্নে দেখলেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শরীর দ্বিতীয়বার চলে যাচ্ছে ধরাধাম ছেড়ে। সেটাই কি তবে স্বামীজির তাঁকে দেওয়া দ্বিতীয় মৃত্যু বার্তা ছিল!
স্বামী অভেদানন্দকে অবশ্য স্বামীজি তাঁর মৃত্যুর বছর পাঁচ ছয়েক আগে এমনই এক বার্তা দিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই একদিন স্বামীজি তাঁকে বলেন, “আমি আর বছর পাঁচ ছয়েক বাঁচবো বুঝলে।” অভেদানন্দ স্বামীজির এমন কথায় বেশ বিরক্ত। স্বামীজির উত্তর, “তুমি বুঝবে না হে , তুমি বুঝবে না। আমার আত্মা দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে। এত বড় হয়ে যাচ্ছে যে তা আর আমার এই শরীরের মধ্যে তাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। খালি ছেড়ে পালাতে চাইছে।”
-----------সংগ্রহীত-----------
=====<--©-আদ্যনাথ-->===
স্বামী বিবেকানন্দ::----
প্রাণের শেষ এবং সর্বোত্তম প্রকাশ হইল ‘প্রেম'। যে মুহূর্তে প্রাণ হইতে প্রেম উৎপন্ন করিতে পারিবে, তখনই তুমি মুক্ত। এই প্রেম লাভ করাই সর্বাপেক্ষা কঠিন ও মহৎ কাজ।
অপরের দোষ দেখিও না, নিজেরই সমালােচনা করা উচিত। মাতালকে দেখিয়া নিন্দা করিও না; মনে রাখিও, মাতাল তােমারই আর একটি রুপ।
যাহার নিজের মধ্যে মলিনতা নাই, সে অপরের মধ্যেও মলিনতা দেখে না। তােমার নিজের মধ্যে যাহা আছে, তাহাই তুমি অপরের মধ্যে দেখিয়া থাক।সংস্কার-সাধনের ইহাই সুনিশ্চিত পন্থা।
যে-সকল সংস্কারক অন্যের দোষ দর্শন করেন, তাঁহারা নিজেরাই যদি দোষাবহ কাজ বন্ধ করেন, তবে জগৎ আরও ভাল হইয়া উঠিবে। নিজের মধ্যে এই ভাব পুনঃপুনঃ ধারণা করিবার চেষ্টা কর।
🌼°°স্বামী বিবেকানন্দ°°🌼
===========================
আলমোড়া
২৯ জুলাই, ১৮৯৭
প্রিয় মিস নোব্ল্,
তোমাকে খোলাখুলি বলছি, এখন আমার দৃঢ় বিশ্বাস হয়েছে যে, ভারতের কাজে তোমার এক বিরাট ভবিষ্যৎ রয়েছে। ভারতের জন্য, বিশেষতঃ ভারতের নারীসমাজের জন্য, পুরুষের চেয়ে নারীর—একজন প্রকৃত সিংহীর প্রয়োজন। ভারতবর্ষ এখনও মহীয়সী মহিলার জন্মদান করতে পারছে না, তাই অন্য জাতি থেকে তাকে ধার করতে হবে। তোমার শিক্ষা, ঐকান্তিকতা, পবিত্রতা, অসীম ভালবাসা, দৃঢ়তা—সর্বোপরি তোমার ধমনীতে প্রবাহিত কেল্টিক রক্তের জন্য তুমি ঠিক সেইরূপ নারী, যাকে আজ প্রয়োজন।
অনন্ত ভালবাসা জানবে। ইতি
সদা ভগবৎ-পদাশ্রিত
বিবেকানন্দ.
=============================
স্বামী বিবেকানন্দ নামকরণ করেন কে?
__________________________
ভারতীয় সাধুদের চিরন্তন ধারাই হল: তাঁরা এক জায়গায় বেশীদিন থাকেন না; তীর্থে তীর্থে পরিব্রাজক হয়ে ঘুরে বেড়ান সাধন ভজনের জন্য। স্বামী বিবেকানন্দও এর ব্যতিক্রম নন। কখনও একা, কখনও বা কতিপয় গুরুভাই মিলে তিনিও পরিব্রাজক হয়ে বেরিয়ে পড়েছেন একাধিকবার। শেষবার পরিব্রাজক হয়ে বেরিয়েছিলেন , ১৮৯০-এর জুলাই মাসে। তিন বছর দেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরে ১৮৯৩ সালের ৩১, শে মে আমেরিকা যাত্রা করেছিলেন। স্বামীজীর ভারত-পরিক্রমা বলতে সাধারণত এই তিন বছরের পরিব্রাজক জীবনকেই বোঝা হয়।
পরিব্রাজক জীবনে পরিচয় গােপন করার জন্য স্বামীজী নানা নাম ব্যবহার করতেন—স্বামী বিবিদিষানন্দ, স্বামী সচ্চিদানন্দ এবং স্বামী বিবেকানন্দ। অনেকদিন লােকের ধারণা ছিল ‘বিবেকানন্দ’ নামটি খেতড়ির রাজা অজিত সিং দিয়েছেন।
কিন্তু আবু পাহাড় থেকে * ৩০ এপ্রিল ১৮৯১ তারিখে লেখা একটি চিঠিতেও স্বামীজী ‘বিবেকানন্দ’ নামটি ব্যবহার করেছেন, অথচ তখনও তাঁর খেতড়ি রাজের সঙ্গে পরিচয় হয়নি (সম্ভবত ৪ঠা জুন, ১৮৯১ সালে তাঁদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়)। এ ছাড়া এই প্রসঙ্গে প্রয়াত ডক্টর ক্ষিতি মোহন সেনের লেখা থেকে জানা যায় যে, (বাংলার সুপরিচিত সাহিত্যিক এবং শান্তিনিকেতন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য) , একটি প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, যা পুজো সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল, বাংলা দৈনিক, আনন্দ বাজার পত্রিকা, 1958 সালে (1365 খ্রি.) 'স্বামী বিবেকানন্দ ও রবীন্দ্র সঙ্গীত' শিরোনামে। এর থেকে একটি সংক্ষিপ্ত অংশ এরকম:
....স্বামী বিবেকানন্দ গান গাইতে অসাধারণ পারদর্শী ছিলেন। তিনি সম্ভবত বাবু কেশব চন্দ্রের কাছ থেকে তাঁর নাম 'বিবেকানন্দ' পেয়েছিলেন। এটা বোঝার জন্য সেই সময়ের আরও কিছু বলা দরকার। শ্রী নরেন্দ্রনাথ দত্ত তাঁর পূর্বের নাম ছিল এবং যে পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন তা ব্রাহ্মসমাজের দ্বারা প্রভাবিত ছিল।
নরেন্দ্রনাথ কেশবচন্দ্র সেনের বড় প্রিয়পাত্র ছিলেন এবং ভক্ত কেশবচন্দ্র ডাকতেন নরেন্দ্রনাথকে 'বিবেক' বলে। ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণ যখন তাঁকে তাঁর নিজের বৃত্তে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেন তখন তিনি ভাবতে লাগলেন কী নাম দেওয়া উচিত। তাঁর নাম কি নরেন্দ্রানন্দ হওয়া উচিত? ঠিক তখনই তাঁর মনে পড়ে যে শ্রী কেশবচন্দ্র নরেন্দ্রনাথকে 'বিবেক' বলে ডাকতেন। তাই তিনি বিবেকের সাথে আনন্দ যোগ করে তাঁর নাম রাখেন বিবেকানন্দ............ আবার এটাও চোখে পড়ে প্রকৃতপক্ষে নরেনকে কমলাক্ষ (পদ্ম-চোখ) নাম দেওয়া হয়েছিল কিন্তু নরেন সঙ্গে সঙ্গে তা বাদ দিয়েছিলেন।
পণ্ডিত ঝাবেরমালজি শর্মা তাঁর বইয়ে এই কথাটি লিখেছেন, ক্ষেত্রী নরেশ এবং বিবেকানন্দ, 1927 সালে প্রকাশিত:
খুব কম লোকই হয়তো জানেন যে স্বামীজির সুপরিচিত নাম বিবেকানন্দ রাজাজি দিয়েছিলেন। এবং স্বামীজীর প্রিয়তম গুরুভাই স্বামী অখণ্ডানন্দ ওই বইয়ের ভূমিকা লিখেছিলেন।
*পত্র সংখ্যা- ৫১
আবু পাহাড়
৩০ এপ্রিল, ১৮৯১
প্রিয় গোবিন্দ সহায়,
তুমি কি সেই ব্রাহ্মণ বালকটির উপনয়ন সম্পন্ন করিয়াছ? তুমি সংস্কৃত পড়িতেছ কি? কতদূর অগ্রসর হইলে? আশা করি প্রথমভাগ নিশ্চয়ই শেষ করিয়া থাকিবে। … তুমি শিবপূজা সযত্নে করিতেছ তো? যদি না করিয়া থাক তো করিতে চেষ্টা করিও। ‘তোমরা প্রথমে ভগবানের রাজ্য অন্বেষণ কর, তাহা হইলেই সব পাইবে।’ ভগবানকে অনুসরণ করিলেই তুমি যাহা কিছু চাও পাইবে। … কম্যাণ্ডার সাহেবদ্বয়কে আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা জানাইবে; তাঁহারা উচ্চপদস্থ হইয়াও আমার ন্যায় একজন দরিদ্র ফকিরের প্রতি বড়ই সদয় ব্যবহার করিয়াছিলেন। বৎসগণ, ধর্মের রহস্য শুধু মতবাদে নহে, পরন্তু সাধনার মধ্যে নিহিত। সৎ হওয়া এবং সৎ কর্ম করাতেই সমগ্র ধর্ম পর্যবসিত। “যে শুধু ‘প্রভু প্রভু’ বলিয়া চীৎকার করে সে নহে, কিন্তু যে সেই পরমপিতার ইচ্ছানুসারে কার্য করে, সেই ধার্মিক।” তোমরা আলোয়ারবাসী যে কয়জন যুবক আছ, তোমরা সকলেই চমৎকার লোক, এবং আশা করি যে অচিরেই তোমাদের অনেকেই সমাজের অলঙ্কার স্বরূপ এবং জন্মভূমির কল্যাণের হেতুভূত হইয়া উঠিবে। ইতি
আশীর্বাদক
বিবেকানন্দ
__________
পুঃ—যদিই বা মাঝে মাঝে সংসারে এক-আধটু ধাক্কা খাও, তথাপি বিচলিত হইও না; নিমিষেই উহা চলিয়া যাইবে এবং পুনরায় সব ঠিকঠাক হইয়া যাইবে।
After the death of Ramakrishna, in January 1887 Vivekananda (then Narendranath Datta) and eight other disciples of Ramakrishna took their formal monastic vow at Baranagar math. In 1888, Vivekananda left the monastery of Baranagar and started his life as a wandering monk. In June 1891 Vivekananda reached Khetri and there on 4 June 1891 he met Ajit Singh for the first time.
সূত্র: বেণীশঙ্কর শর্মার পুস্তক ইত্যাদি...
প্রণাম নিও স্বামীজী।
(সংগ্রহীত)
আদ্যনাথ
==========================
স্বামী বিবেকানন্দ::---
আত্মচেতনার দিশাহীনতা
স্বামী সোমেশ্বরানন্দ
~~~~~~~~~~~~~~~
স্বামীজীর বিভিন্ন মন্তব্যে বোঝা যায় বর্তমান ভারতে কিসের অভাব। এবং কিভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। এখানে চারটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো।
১) সিস্টেম-স্ট্রাকচার আইন-নিয়মের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক মানুষ তৈরি করা। এমন মানুষ যারা প্রগতির পথে নিয়ে যাবে দেশকে।
২) বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিবর্তনের উপাদান গুলি কে বোঝা দরকার।
৩) অন্য দেশের সাহায্য দরকার, কিন্তু আমাদের সম্বন্ধে তাদের যদি শ্রদ্ধা-বিশ্বাস না থাকে তবে এটা একতরফা হয়ে দাঁড়াবে। পারস্পরিক দেয়া-নেয়ার উপরেই সম্পর্ক দাঁড়ায়। অন্যান্য দেশ থেকে সাহায্য নেয়ায় দোষ নেই, কিন্তু আমরা তাদের কি দিচ্ছি? তারা শ্রদ্ধাবশত দিচ্ছে অথবা এটা ব্যবসায়ীক দেয়া-নেয়া।
৪) আত্মবিশ্বাস আত্মনির্ভরতা ও দেশপ্রেমই একটি জাতিকে বড় করে। বয়স্ক প্রজন্ম -- বিশেষত অভিভাবক-নেতা-ব্যবসায়ী জগৎ কি যুবসমাজের মধ্যে এই প্রবণতা বাড়াতে উৎসাহী?
বিশ্বায়নের যুগে নেতা ও পন্ডিতেরা বার-বার দাবি করেন -- ভারত আজ বিশ্বে এক সুপার পাওয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বিদেশীদের চোখে বর্তমান ভারত এক বাজার মাত্র। ভারতের জমি, দেশজ কাঁচামাল, সস্তা শ্রম এবং ভারতের বিশাল ক্রেতাবাহিনী বা বাজার এই দেখেই বিদেশীরা আসছে। তারা আসছে বাণিজ্য বিস্তারে। চিন্তা, মনন বা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে ভারতের কাছে কিছু শেখার আছে -- একথা তারা মানে? বিদেশি দূরের কথা, দেশি পন্ডিত ও নেতারাও ভাবেন এ কথা?
এ প্রসঙ্গে আবার মনে করে বিখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টুলির কথা। বিদেশি হয়েও যিনি এ দেশকে ভালোবেসেছিলেন, তিনি তার লেখা "নো ফুলস্টপস্ ইন ইন্ডিয়া" বইয়ে লিখেছেনঃ "ঔপনিবেশিক পিছুটান থেকে ভারত এখনো মুক্ত হতে পারেনি। দেশের শিক্ষিত গোষ্ঠী এখনও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভারতবোধ নিয়ে শ্রদ্ধা সম্পন্ন নয়। ভারতীয় সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বাইরের দিকে তাকানোর প্রবণতা এখনও রয়েছে। দেশজ সমাধান নিয়ে তারা ব্যস্ত নন"।
ভারত-সংস্কৃতি, ভারতবোধ, দেশজ সমাধান -- বিবেকানন্দের কথারই প্রতিধ্বনি বাজে মার্ক টুলির মধ্যে।
______________________
সংগ্রহীত তথ্যসূত্রঃ আজ যদি বিবেকানন্দ ফিরে আসেন, পৃষ্ঠাঃ ৩৮
(আদ্যনাথ)
======================================
|| বিবেকানন্দ ||
[শ্রীযুক্ত হরিদাস বিহারীদাস দেশাইকে লিখিত]
চিকাগো
১৫ নভেম্বর, ১৮৯৪
প্রিয় দেওয়ানজী সাহেব,
আপনার অনুগ্রহ লিপি পাইয়াছি। আপনি যে এখানেও আমাকে স্মরণ করিয়াছেন, তাহা আপনার সৌজন্যের নিদর্শন। আপনার বন্ধু নারায়ণ হেমচন্দ্রের সহিত আমার সাক্ষাৎ হয় নাই। তিনি বর্তমানে আমেরিকায় নাই বলিয়াই আমার বিশ্বাস। আমি এখানে বহু চমকপ্রদ এবং অপূর্ব দৃশ্যাদি দেখিয়াছি।
আপনার ইওরোপে আসিবার বিশেষ সম্ভাবনা আছে জানিয়া সুখী হইলাম। যে প্রকারেই হউক এ সুযোগ অবশ্য গ্রহণ করিবেন। জগতের অন্যান্য জাতি হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়া থাকাই আমাদের অধঃপতনের হেতু এবং পুনর্বার সকলের সহিত একযোগে জগতের জীবনধারায় ফিরিয়া যাইতে পারিলেই সে অবস্থার প্রতিকার হইবে। গতিই তো জীবন। আমেরিকা একটি অদ্ভুত দেশ। দরিদ্র ও স্ত্রীজাতির পক্ষে এদেশ যেন স্বর্গের মত। এদেশে দরিদ্র একরূপ নাই বলিলেই চলে এবং অন্য কোথাও মেয়েরা এদেশের মেয়েদের মত স্বাধীন শিক্ষিত ও উন্নত নহে। সমাজে উহারাই সব।
ইহা এক অপূর্ব শিক্ষা। সন্ন্যাসজীবনের কোন ধর্ম—এমন কি দৈনন্দিন জীবনের খুঁটিনাটি জিনিষগুলি পর্যন্ত আমাকে পরিবর্তিত করিতে হয় নাই, অথচ এই অতিথিবৎসল দেশে প্রত্যেকটি গৃহদ্বারই আমার জন্য উন্মুক্ত। *যে প্রভু ভারতবর্ষে আমাকে পরিচালিত করিয়াছেন, তিনি কি আর এখানে আমাকে পরিচালিত করিবেন না? তিনি তো করিতেছেনই! একজন সন্ন্যাসীর এদেশে আসিবার কী প্রয়োজন ছিল, আপনি হয়তো তাহা বুঝিতে পারেন না, কিন্তু ইহার প্রয়োজন ছিল। জগতের নিকট আপনাদের পরিচয়ের একমাত্র দাবী—ধর্ম, এবং সেই ধর্মের পতাকাবাহী যথার্থ খাঁটি লোক ভারতের বাহিরে প্রেরণ করিতে হইবে, আর তাহা হইলেই ভারতবর্ষ যে আজও বাঁচিয়া আছে, এ কথা জগতের অন্যান্য জাতি বুঝিতে পারিবে*।
বস্তুতঃ যথার্থ প্রতিনিধিস্থানীয় কিছু লোকের এখন ভারতের বাহিরে জগতের অন্যান্য দেশে যাইয়া ইহা প্রতিষ্ঠা করা উচিত যে, ভারতবাসীরা বর্বর কিম্বা অসভ্য নহে। ঘরে বসিয়া হয়তো আপনারা ইহার প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করিতে পারিবেন না, কিন্তু আপনাদের জাতীয় জীবনের জন্য ইহার বিশেষ প্রয়োজনীয়তা আছে—আমার এ-কথা বিশ্বাস করুন।
_*যে সন্ন্যাসীর অন্তরে অপরের কল্যাণ-সাধন-স্পৃহা বর্তমান নাই, সে সন্ন্যাসীই নহে—সে তো পশুমাত্র*_!
*আমি অলস পর্যটক নহি, কিম্বা দৃশ্য দেখিয়া বেড়ানও আমার পেশা নহে। যদি বাঁচিয়া থাকেন, তবে আমার কার্যকলাপ দেখিতে পাইবেন এবং আজীবন আমাকে আশীর্বাদ করিবেন*।
দ্বিবেদী মহাশয়ের প্রবন্ধ ধর্মমহাসভার পক্ষে অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ায় উহাকে কাটিয়া ছাঁটিয়া ছোট করিতে হইয়াছিল। ধর্মমহাসভায় আমি কিছু বলিয়াছিলাম এবং তাহা কতটা ফলপ্রসূ হইয়াছিল তাহার নিদর্শনস্বরূপ আমার হাতের কাছে যে দু-চারিটি দৈনিক ও মাসিক পত্রিকা পড়িয়া আছে, তাহা হইতেই কিছু কিছু কাটিয়া পাঠাইতেছি। নিজের ঢাক নিজে পিটান আমার উদ্দেশ্য নহে, কিন্তু আপনি আমাকে স্নেহ করেন, সেই সূত্রে আপনার নিকট বিশ্বাস করিয়া আমি এ-কথা অবশ্য বলিব যে, ইতোপূর্বে কোন হিন্দু এদেশে এরূপ প্রভাব বিস্তার করিতে পারে নাই এবং আমার আমেরিকা আগমনে যদি অন্য কোন কাজ নাও হইয়া থাকে, আমেরিকাবাসিগণ অন্ততঃ এটুকু উপলব্ধি করিয়াছে যে, আজও ভারতবর্ষে এমন মানুষের আবির্ভাব হইয়া থাকে, যাঁহাদের পাদমূলে বসিয়া জগতের সর্বাপেক্ষা সভ্য জাতিও ধর্ম এবং নীতি শিক্ষা লাভ করিতে পারে। আর হিন্দুজাতি যে একজন সন্ন্যাসীকে প্রতিনিধিরূপে এদেশে প্রেরণ করিয়াছিল, তাহার সার্থকতা উহাতেই যথেষ্টরূপে সাধিত হইয়াছে বলিয়া কি আপনার মনে হয় না? বিস্তারিত বিবরণ বীরচাঁদ গান্ধীর নিকট অবগত হইবেন।
কয়েকটি পত্রিকা হইতে অংশবিশেষ আমি নিয়ে উদ্ধৃত করিতেছিঃ
‘সংক্ষিপ্ত বক্তৃতার অনেকগুলিই বিশেষ বাগ্মিতাপূর্ণ হইয়াছিল সত্য, কিন্তু হিন্দু সন্ন্যাসী ধর্মমহাসভার মূল নীতি ও উহার সীমাবদ্ধতা যেরূপ সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন, অন্য কেহই তাহা করিতে পারে নাই। তাঁহার বক্তৃতার সবটুকু আমি উদ্ধৃত করিতেছি এবং শ্রোতৃবৃন্দের উপর উহার প্রতিক্রিয়া সম্বন্ধে শুধু এইটুকু বলিতে পারি যে, দৈবশক্তিসম্পন্ন বক্তা তিনি এবং তাঁহার অকপট উক্তিসমূহ যে মধুর ভাষার মধ্য দিয়া তিনি প্রকাশ করেন, তাহা তদীয় গৈরিক বসন এবং বুদ্ধিদীপ্ত দৃঢ় মুখমণ্ডল অপেক্ষা কম আকর্ষণীয় নয়।’— (নিউ ইয়র্ক ক্রিটিক)
ঐ পৃষ্ঠাতেই পুনর্বার লিখিত আছেঃ
‘তাঁহার শিক্ষা, বাগ্মিতা এবং মনোমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব আমাদের সম্মুখে হিন্দু সভ্যতার এক নূতন ধারা উন্মুক্ত করিয়াছে। তাঁহার প্রতিভাদীপ্ত মুখমণ্ডল, গম্ভীর ও সুললিত কণ্ঠস্বর স্বতই মানুষকে তাঁহার দিকে আকৃষ্ট করে এবং ঐ বিধিদত্ত সম্পদসহায়ে এদেশের বহু ক্লাব ও গীর্জায় প্রচারের ফলে আজ আমরা তাঁর মতবাদের সহিত পরিচিত হইয়াছি। কোন প্রকার নোট প্রস্তুত করিয়া তিনি বক্তৃতা করেন না। কিন্তু নিজ বক্তব্য বিষয়গুলি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করিয়া অপূর্ব কৌশল ও ঐকান্তিকতা সহকারে তিনি মীমাংসায় উপনীত হন এবং অন্তরের গভীর প্রেরণা তাঁহার বাগ্মিতাকে অপূর্বভাবে সার্থক করিয়া তোলে।’
‘ধর্মমহাসভায় বিবেকানন্দই অবিসংবাদিরূপে সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তাঁহার বক্তৃতা শুনিয়া আমরা বুঝিতেছি যে, এই শিক্ষিত জাতির মধ্যে ধর্মপ্রচারক প্রেরণ করা কত নির্বুদ্ধিতার কাজ।’—(হের্যাল্ড, এখানকার শ্রেষ্ঠ কাগজ)
_আর অধিক উদ্ধৃত করিলাম না, পাছে আমায় দাম্ভিক বলিয়া মনে করেন। কিন্তু আপনাদের বর্তমান অবস্থা প্রায় কূপমণ্ডূকের মত হইয়াছে বলিয়া এবং বহির্জগতে কোথায় কি ঘটিতেছে, তাহার দিকে দৃষ্টি দিবার মত অবস্থা আপনাদের নাই দেখিয়া এটুকু লেখা প্রয়োজন বোধ করিয়াছি_। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে আপনার কথা বলিতেছি না—আপনাকে মহাপ্রাণ বলিয়া জানি, *কিন্তু জাতির সর্বসাধারণের পক্ষে আমার উক্তি প্রযোজ্য*।
_আমি ভারতবর্ষে যেমন ছিলাম এখানেও ঠিক তেমনি আছি, কেবল এই বিশেষ উন্নত ও মার্জিত দেশে যথেষ্ট সমাদর ও সহানুভূতি লাভ করিতেছি_— *যাহা আমাদের দেশের নির্বোধগণ স্বপ্নেও চিন্তা করিতে পারে না। আমাদের দেশে সাধুকে এক টুকরা রুটি দিতেও সবাই কুণ্ঠিত হয় আর এখানে একটি বক্তৃতার জন্য এক হাজার টাকা দিতেও সকলে প্রস্তুত; এবং যে উপদেশ ইহারা লাভ করিল, তাহার জন্য আজীবন কৃতজ্ঞ থাকে*।
*এই অপরিচিত দেশের নরনারী আমাকে যতটুকু বুঝিতে পারিতেছে, ভারতবর্ষে কেহ কখনও ততটুকু বোঝে নাই। আমি ইচ্ছা করিলে এখন এখানে পরম আরামের মধ্যে জীবন কাটাতেই পারি, কিন্তু আমি সন্ন্যাসী এবং সমস্ত দোষত্রুটি সত্ত্বেও ভারতবর্ষকে ভালবাসি। অতএব দু-চারি মাস পরেই দেশে ফিরিতেছি এবং যাহারা কৃতজ্ঞতার ধারও ধারে না, তাহাদের মধ্যে পূর্বের মত নগরে নগরে ধর্ম ও উন্নতির বীজ বপন করিতে থাকিব*।
*আমেরিকার জনসাধারণ ভিন্নধর্মাবলম্বী হইয়াও আমার প্রতি যে সহায়তা সহানুভূতি শ্রদ্ধা ও আনুকূল্য দেখাইয়াছে, তাহার সহিত আমার নিজ দেশের স্বার্থপরতা অকৃতজ্ঞতা ও ভিক্ষুক-মনোবৃত্তির তুলনা করিয়া আমি লজ্জা অনুভব করি এবং সেই জন্যই আপনাকে বলি যে, দেশের বাহিরে আসিয়া অন্যান্য দেশ দেখুন এবং নিজ অবস্থার সহিত তুলনা করুন*।
এখন, এই-সকল উদ্ধৃত অংশ পাঠ করিবার পর, ভারতবর্ষ হইতে একজন সন্ন্যাসী এদেশে প্রেরণ করা সমীচীন হইয়াছে বলিয়া আপনার মনে হয় কি?
অনুগ্রহপূর্বক এই চিঠি প্রকাশ করিবেন না। _*ভারতবর্ষে থাকিতেও যেমন, এখানেও ঠিক তেমনি—অপকৌশল দ্বারা নাম করাকে আমি ঘৃণা করি*_।
*আমি প্রভুর কার্য করিয়া যাইতেছি এবং তিনি যেথায় লইয়া যাইবেন সেখানেই যাইব। ‘মূকং করোতি বাচালং’ ইত্যাদি—যাঁহার কৃপা মূককে বাচাল করে, পঙ্গুকে গিরি লঙ্ঘন করায়, তিনিই আমাকে সাহায্য করিবেন। আমি মানুষের সাহায্যের অপেক্ষা রাখি না। যদি প্রভুর ইচ্ছা হয়, তবে ভারতবর্ষে কিম্বা আমেরিকায় কিম্বা উত্তর মেরুতে সর্বত্র তিনিই আমাকে সাহায্য করিবেন। আর যদি তিনি সাহায্য না করেন, তবে অন্য কেহই করিতে পারিবে না। চিরকাল প্রভুর জয় হউক*। ইতি
আশীর্বাদক
আপনাদের বিবেকানন্দ
[ স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা / ৭ম খণ্ড / পত্রাবলী ( পুনরাবৃত্তি)
( সংগ্রহীত)
<---আদ্যনাথ-->
============================
স্বামীজির ১৫০ বছরের সময়::---
একটা ছোট্ট ঘটনা বলি,
স্বামীজির ১৫০ বছরের সময়, স্বামীজির বাড়ি ( কলকাতার সিমলে) তে একটি কাঠের মিস্ত্রি কাজ করছিলো,
মহারাজ রা ওনাকে খুব চাপ দিচ্ছিলেন যে স্বামীজির তিথি পূজার আগে কাজ শেষ করতে হবে, এবং সারা দিন ও রাত্রি কাজ করতে মহারাজরা বলেছিলেন,
একবার রাত্রি তে কাজ করতে করতে মিস্ত্রি ক্লান্তি অনুভব করে, ও চোখ বুজে আসে, হঠাৎ দেখে যে একজন সাধু দাড়িয়ে আছেন, ও ভয় পেয়ে কাকুতি মিনতি করতে লাগলো, সেই সাধু তাকে বললো তুমি একটু ঘুমিয়ে নাও, তোমার কোনো ভয় নেই,
এবং প্রতি রাত্রিতে সেই সাধু মিস্ত্রির কাছে আসতেন ও গল্পো করতেন।
এইবার কাজ শেষ হলো, স্বামীজির বাড়ির মহারাজরা সেই কাঠের মিস্ত্রিকে নিমন্ত্রণ করলেন স্বামীজির ১৫০ বছরের জন্মতিথির অনুষ্ঠানে।
সেই মিস্ত্রি ঠিক সময় এসে অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে।
এই সময় স্টেজে স্বামীজীর ছবিতে মালা দিয়েছেন ও অনুষ্ঠান শুরু হবে, এই সময় সেই মিস্ত্রি মহারাজ কে বললেন যে ওনার ছবি তে মালা দিলেন কেনো?
উনি তো বেচেঁ আছেন।
তার উত্তরে মহারাজ বলেন যে উনি হচ্ছেন স্বামী বিবেকানন্দ ও উনি১৫০ বছরের জন্মদিন, ওনার জন্য এই অনুষ্ঠান।
মিস্ত্রি হতভম্ভ!! এবং অবাক ,!
মিস্ত্রি , মহারাজকে বললেন যে এই সাধু কে আমি রোজ দেখেছি আমার রাত্রির কাজের সময়, উনি আসতেন ও কতো ভালো কথা বলতেন এবং কাজের শেষ দিন পর্যন্ত। মহারাজ রা স্তম্ভিত কথা শুনে।
মহারাজ রা বুকে জড়িয়ে ধরলেন। ধন্য সেই কাঠের মিস্ত্রি। যে মহারাজরা স্বামীজির দর্শন পায় না,কিন্তু মিস্ত্রি স্বামীজির দর্শন পেলো, মিস্ত্রি কাজ ছেড়ে দিয়ে স্বামীজির পুজো করছেন
এবং জানলে অবাক হবেন যে সেই কাঠের মিস্ত্রি একজন মুসলিম।
এটা কোনো শেয়ার করা নয়।
🙏🏻🙏🏻জয় স্বামীজি🌹🌹🌹🌹🌹
(সংগ্রহীত)
==========================
|| প্রেম--:-স্বামী বিবেকানন্দ ||
প্রাণের শেষ এবং সর্বোত্তম প্রকাশ হইল ‘প্রেম'। যে মুহূর্তে প্রাণ হইতে প্রেম উৎপন্ন করিতে পারিবে, তখনই তুমি মুক্ত। এই প্রেম লাভ করাই সর্বাপেক্ষা কঠিন ও মহৎ কাজ।
অপরের দোষ দেখিও না, নিজেরই সমালােচনা করা উচিত। মাতালকে দেখিয়া নিন্দা করিও না; মনে রাখিও, মাতাল তােমারই আর একটি রুপ।
যাহার নিজের মধ্যে মলিনতা নাই, সে অপরের মধ্যেও মলিনতা দেখে না। তােমার নিজের মধ্যে যাহা আছে, তাহাই তুমি অপরের মধ্যে দেখিয়া থাক।সংস্কার-সাধনের ইহাই সুনিশ্চিত পন্থা।
যে-সকল সংস্কারক অন্যের দোষ দর্শন করেন, তাঁহারা নিজেরাই যদি দোষাবহ কাজ বন্ধ করেন, তবে জগৎ আরও ভাল হইয়া উঠিবে। নিজের মধ্যে এই ভাব পুনঃপুনঃ ধারণা করিবার চেষ্টা কর।
🌼°°স্বামী বিবেকানন্দ°°🌼
°==============================
स्वामी बिबेकानन्द जी बोले थे------
याद रखना,
स्वामी बिबेकानन्द जी बोले थे------
"शक्तिही जीवन, कमजोरी तथा दुर्बलता है मृत्यु।
शक्ति वा ऊर्जा ही सुख, शाश्वत जीवन, अमरता या अविनश्वर है।
कमजोरी अनंत पीड़ा और दुख है,
कमजोरी मौत है।"
======================
স্বামী বিবেকানন্দের উক্তি-----
শক্তিই জীবন,দুর্বলতা হচ্ছে মৃত্যু।
শক্তি হল সুখ,অনন্ত জীবন, অবিনশ্বর।
দুর্বলতা হল অবিরাম কষ্ট ও দুর্দশা,
দুর্বলতাই মৃত্যু।
=======================
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
"কৃষ্ণের আধিপত্যকে যে বিনা প্রশ্নে মেনে নেবে, গীতায় শুধু তারই অধিকার"
রাজশেখর বসু লিখেছেন, “গীতা সর্বসাধারণের জন্য রচিত হয়নি।
গীতায় তারই অধিকার, যে কৃষ্ণ-প্রাথম্যকে পরম আনুগত্যে মেনে নেবে।"
=========================
স্বামিজী...শিষ্যদের বলিলেন, "কালী, কালী, কালী। তিনি কাল, তিনি পরিবর্তন, অনন্ত শক্তি। যে হৃদয়ে ভয় নেই, সেখানেই তিনি আছেন। যেখানে ত্যাগ, আত্মবিস্মৃতি, মরণকে আলিঙ্গনের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা, সেখানেই মা। এই মায়ের কী রূপ!"
No comments:
Post a Comment